GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ফ্লাইদুবাই ছিনতাইয়ের পেছনে বড় লক্ষ্য? কো-পাইলটকে ঘিরে ইসরাইলের নতুন দাবি

ফ্লাইদুবাই ছিনতাইয়ের পেছনে বড় লক্ষ্য? কো-পাইলটকে ঘিরে ইসরাইলের নতুন দাবি

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের কর্মকর্তাদের একটি অংশের দাবি, বিমানের কো-পাইলটের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য শুধু উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ছিল না। তার লক্ষ্য থাকতে পারে ইসরাইলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় সহকারী পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে থাকা ক্যাপ্টেন স্মিথ মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামি একটি কুঠার বা ক্র্যাশ অ্যাক্স ব্যবহার করে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ক্যাপ্টেন এবং কয়েকজন যাত্রী তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।

পরে ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের বহনকারী বিমানটি ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ঘটনার পর থেকেই হামামির আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

ইসরাইলের একটি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হামামির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। ইসরাইলি চ্যানেল-১২ নিউজেও একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে তদন্তকারীদের সামনে এই দাবিকে ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, হামামি যদি সত্যিই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে হামলার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে তিনি ইসরাইলের আকাশসীমায় পৌঁছানোর অনেক আগেই কেন সৌদি আরবের আকাশে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালালেন, তার পরিষ্কার ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

বিমানে সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত পাওয়ার পর ইসরাইলও দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। বেন গুরিয়নের দিকে আসা বিমানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়। সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে এটি দেশটির অন্যতম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

একাই কি সবকিছু করেছিলেন কো-পাইলট?

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হামামির সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগাযোগ ছিল কি না। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোনো সংগঠনের কাছ থেকে তিনি প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন বা নির্দেশনা পেয়েছিলেন এমন প্রমাণ সামনে আসেনি।

সিএনএনের অনুসন্ধানেও এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে হামামির সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল। ফলে তদন্তকারীদের একটি সম্ভাবনা হচ্ছে, তিনি হয়তো একাই এই পরিকল্পনা করেছিলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসি ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হামামি কুঠারজাতীয় একটি অস্ত্র দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

তদন্তে হামামির আগের কর্মজীবন নিয়েও কিছু তথ্য সামনে এসেছে। সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় পাইলট হিসেবে কাজ করার সময় তার কথিত চরমপন্থি মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। পরে তাকে পাইলটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডেস্কভিত্তিক কাজে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এখন তদন্তকারীরা মূলত কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখছেন। হামামির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্বে যাওয়ার আগে তার নিরাপত্তা যাচাই কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, সেগুলোই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ফ্লাইদুবাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। একইভাবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সরকারি সংস্থার কাছেও বক্তব্য চাওয়া হয়েছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পাইলটের নিরাপত্তা যাচাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এয়ারলাইন, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সাধারণত বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে। তবে কোন দেশে কী ধরনের লাইসেন্স ও নিরাপত্তা যাচাই করা হবে, সে নিয়ম এক নয়।

ফলে ফ্লাইদুবাইয়ের এই ঘটনার তদন্ত যত এগোবে, হামামির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং তার অতীত নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

Social Icons