GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / সারাদেশ / বান্দরবানের দুর্গম জনপদে ৯০% স্যানিটেশনহীন:ডায়রিয়া ও মহামারীর আশঙ্কা

বান্দরবানের দুর্গম জনপদে ৯০% স্যানিটেশনহীন:ডায়রিয়া ও মহামারীর আশঙ্কা

একুশ শতকের আধুনিক অগ্রযাত্রার মাঝেও পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রান্তিক ও দুর্গম পাহাড়ি জনপদগুলোতে আধুনিক সভ্যতার ন্যূনতম সুফল পৌঁছায়নি। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকাতেই গড়ে ওঠেনি কোনো নিরাপদ স্যানিটেশন ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ফলে যুগ যুগ ধরে নিরাপদ শৌচাগার সুবিধাবঞ্চিত হাজারো পাহাড়ি মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অবহেলার মুখোমুখি হচ্ছেন।

সরেজমিনে বান্দরবানের আলীকদম সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ক্রাসিং পাড়ায় গিয়ে দেখা যায় করুণ বাস্তবচিত্র। একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম ট্রলার ও নৌকায় নদী পার হয়ে কয়েক ঘণ্টার পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় এই পাড়ায়। জঙ্গল ও সবুজ পাহাড়ে ঘেরা ২৫ পরিবারের প্রায় ২৫০ জন অধিবাসীর এ গ্রামে একটিও নিরাপদ শৌচাগার নেই। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সব অধিবাসী স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে ওয়াটার বোতল হাতে পাহাড়ি জঙ্গলে খোলা আকাশের নিচে মলমূত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শুধু ক্রাসিং পাড়াতেই শেষ নয়; এর আশপাশে অবস্থিত মেথন পাড়া, বলয় পাড়া, মেনরাই, দরপাড়া ও চংরাই পাড়াসহ অন্তত ৬টি পাড়ার চিত্র একই রকম। প্রায় ৫ হাজার জনগোষ্ঠীর এসব পাহাড়ি গ্রামে একটি পরিবারেও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নেই। অনভিগম্য ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার চরম সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোর অভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক নগর সুবিধা থেকে চিরকাল পিছিয়ে রাখা হয়েছে এসব ম্রো ও ত্রিপুরা জনজাতিকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিংরাও ম্রো ও কারবারি রংলং ম্রো ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি উন্নয়ন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হলেও দুর্গমে তার দেখা মেলেনি। বর্ষাকালে খোলা জায়গায় ফেলা বর্জ্য পাহাড়ি ঢল ও ঝিড়ির পানির সঙ্গে মিশে গিয়ে সুপেয় পানির উৎসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে তুলছে। ফলে পাড়ার শিশুরা প্রতিনিয়ত নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

দুর্গমের এমন স্যানিটেশন সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকা সরাসরি রোগব্যাধি ডেকে আনার শামিল। অনিরাপদ বর্জ্য অপসারণের কারণে ওই এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয় ও কলেরা থেকে শুরু করে যে কোনো সময় মারাত্মক মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।”

যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে মৌলিক সুবিধা বঞ্চিত রাখার বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, চরম দুর্গমতার কারণেই ওইসব এলাকায় এখনো উন্নয়ন সুবিধা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরাদ্দ এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান, দুর্গম এলাকায় স্যানিটেশন কভারেজ বাড়ানোর জন্য নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে চাহিদাকৃত তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। টেন্ডার কার্যক্রম শেষ হলেই দ্রুততম সময়ে এসব দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার স্থাপন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Social Icons