GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / বিরোধীদলীয় নেতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে উত্তাপ

বিরোধীদলীয় নেতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে উত্তাপ

বিরোধীদলীয় নেতা বনাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে উত্তাপ

জাতীয় সংসদে বিরোধী দল থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, সংসদ সদস্য পদ এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত গাজী নজরুলকে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দেন।

গাজী নজরুলকে কমিটিতে রাখার ব্যাখ্যা

আলোচনার শুরুতে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম আগে কয়েকটি স্থায়ী কমিটিতে ছিলেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি ও অনুরোধের পর তাকে সেসব কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে যতক্ষণ তার পদ বহাল থাকে, ততক্ষণ তাকে সংসদীয় কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া স্পিকারের দায়িত্ব।

গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোতে তাকে রাখা সম্ভব না হওয়ায় একটি তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে তাকে রাখা হয়েছিল বলেও জানান চিফ হুইপ। তবে বিরোধী দলের আপত্তি থাকলে তাকে ওই কমিটি থেকে বাদ দিতে সরকারি দলের কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি জানান।

বিরোধীদলীয় নেতার আপত্তি

এরপর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, তাদের কোটা থেকে গাজী নজরুলকে কমিটিতে দেওয়া হয়নি বলেই তারা বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তাকে কমিটিতে প্রস্তাবও করা হয়নি।

শফিকুর রহমানের ভাষ্য, নৈতিক কারণে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই জাতীয় সংসদের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কোনো কমিটিতে তাকে না রাখাটাই নৈতিকভাবে সঙ্গত হতো।

তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ যেহেতু রয়েছে, তাই গাজী নজরুলকে বাদ দেওয়া একটি ভালো দৃষ্টান্ত হবে।

৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

এরপর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলকে রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও পরামর্শ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই কোনো সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয় না। সদস্য নিজে পদত্যাগ না করলে ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি সরাসরি প্রযোজ্য হয় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এ কারণে বিরোধী দল চাইলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

তবে বিরোধীদলীয় নেতার আপত্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে গাজী নজরুলকে সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে বাদ দিতে কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে হাস্যরসাত্মক জবাব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে কিছুটা হাস্যরসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, দুর্বল মানুষকে জব্দ করতে গ্রামে যেমন মেম্বার নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার কথা প্রচলিত আছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও মাঝে মাঝে সংসদকে প্রাণবন্ত করতে এমন কিছু ‘টিপস’ দেন।

তিনি আরও বলেন, গাজী নজরুলকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই তিনি দলের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে ফ্লোর ক্রসিং করেছেন কি না, সেটি নতুন করে দাবি করার সুযোগ তাদের নেই।

তবে নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে কমিটিতে না রাখার আবেদন বিবেচনা করায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে অবস্থান

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বক্তব্য দিয়ে বলেন, বিরোধী দলের অবস্থান থেকে বিষয়টি স্পষ্ট যে তারা গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল রাখতে চান, কিন্তু তাকে কোনো কমিটিতে রাখতে চান না।

তিনি পুনরায় বলেন, সংবিধান অনুযায়ী গাজী নজরুল এখনো বৈধ সংসদ সদস্য। বিরোধী দল ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনো পদক্ষেপ না নিলে তার সদস্যপদ বহাল থাকবে।

তবে বিরোধীদলীয় নেতার সম্মানের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তাকে প্রস্তাবিত কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শেষ পর্যন্ত কমিটি থেকে বাদ

বিতর্কের শেষ পর্যায়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি আবারও বক্তব্য দেন। তিনি সব সংসদ সদস্যের প্রতি সম্মান এবং বিরোধীদলীয় নেতার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটি’ পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৪৫ বিধি অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটির সদস্যদের নাম পাঠ করেন তিনি।

ফলে গাজী নজরুলকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতার আপত্তির পর তাকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তেই বিষয়টির সমাপ্তি ঘটে।

Social Icons