প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হেনা পশারী। এ সময় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়া এবং সে সময় পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
ভাইয়ের সাক্ষ্য নিয়ে যা বললেন হেনা
মানিক পশারীর সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি কোথায় ছিলেন, জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, তখন তিনি খুলনায় শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। পরে এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। এমনকি তিনি কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তা নিয়েও ভাইয়ের কাছে কিছু জানতে চাননি বলে জানান হেনা।
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় মানিক পশারীর সাক্ষী হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাঈদী ‘আল্লাহর ওলি’ ছিলেন। তার বড় ভাই কেন কী করেছেন, তা ভাই নিজে এবং আল্লাহ জানেন। এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেনা পশারী এ বিষয়ে তাদের আর প্রশ্ন না করার অনুরোধ জানান।
বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গ
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হেনা পশারী জানান, সে সময় তারা আশপাশেই ছিলেন।
তবে ওই ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তার বক্তব্যে প্রতিবেদনে আর কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মানিক পশারীর সাক্ষ্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
এদিকে মানিক পশারীর ছোট ভাই চান মিয়া পশারী দাবি করেছেন, তিনি টাকার বিনিময়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
চান মিয়ার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী ভিডিওটি প্রথম ফেসবুকে পোস্ট করেন।
মাসুদ সাঈদী আরও দাবি করেছেন, মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে তাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
তবে মানিক পশারীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মানিক পশারীর নিজের বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।









