GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, দেখা করতে গিয়ে জানলেন তিনি এআই

স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, দেখা করতে গিয়ে জানলেন তিনি এআই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশায় নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সি এদিমার মার্টিনস। সেই নারীর সঙ্গে দেখা করতে পাড়ি দিয়েছিলেন প্রায় ১ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার পথ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।

সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়, নতুন জীবনের স্বপ্ন

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্যের বাসিন্দা এদিমার মার্টিনস পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট খুঁজে পান।

অ্যাকাউন্টটিতে লক্ষাধিক অনুসারী ছিল। সেখানে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এক নারীকে খামারে মনোরম পরিবেশে জীবনযাপন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই চরিত্রটি পুরুষদের তার সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ জানাত এবং থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিত।

মায়ের মৃত্যুর পর একাকিত্বে ভুগছিলেন মার্টিনস। তাঁর মনে হয়েছিল, এই নারী হয়তো তাঁকে নতুন করে জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন। একপর্যায়ে তাঁকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।

সব সম্পত্তি বিক্রি করে দীর্ঘ যাত্রা

জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে দেখা করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন মার্টিনস। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর সেই অর্থ নিয়ে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হোরিজন্তের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর শহরটিতে পৌঁছান মার্টিনস। তাঁর আশা ছিল, এবার বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং ওই নারীর সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন।

কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাঁর সেই আশা ভেঙে যায়।

খুঁজেও পাওয়া গেল না স্বপ্নের নারীকে

বেলো হোরিজন্তে পৌঁছে মার্টিনস নিজের কাছে থাকা নারীর ছবিগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের দেখিয়ে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউই ওই নারীকে চিনতে পারেননি।

শেষ পর্যন্ত একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়, জেসিকা অলিভেইরা নামের ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত চরিত্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি।

মার্টিনস বুঝতে পারেন, যাঁকে বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে এত দূর এসেছেন, তিনি আসলে একজন বাস্তব মানুষ নন।

নিজের হতাশার কথা জানিয়ে মার্টিনস বলেন, ‘এটি কেবল দুঃখ, হতাশা আর বিষণ্নতাই বয়ে আনে। অনেকেই হয়তো কোনো সম্পর্কের সন্ধানে ছিল, তাই আমিও এসেছিলাম।’

অ্যাকাউন্টের পেছনের ব্যক্তির স্বীকারোক্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, চরিত্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। তবে মার্টিনসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।

এ ঘটনায় অনলাইনে দেখা কোনো ছবি বা ভিডিওকে বাস্তব ব্যক্তির পরিচয় ও অস্তিত্বের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়ার ঝুঁকিও সামনে এসেছে।

অসহায় অবস্থায় সহায়তা চাইলেন মার্টিনস

নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ভ্রমণের পেছনে অর্থ ব্যয় করায় বেলো হোরিজন্তে গিয়ে বিপাকে পড়েন মার্টিনস। শেষ পর্যন্ত তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান।

সমাজকর্মীরা তাঁকে খাবার, গোসলের সুবিধা এবং শহরটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি বাসের টিকিট দিয়ে সহায়তা করেন।

এত বড় হতাশার পরও জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি তিনি। বর্তমানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন মার্টিনস। আবারও বেলো হোরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মার্টিনস বলেন, ‘আমি তাকে খুঁজে পাইনি, তবে অন্য কাউকে নিশ্চয়ই খুঁজে পাব। আর সেটি সেই একই জায়গায় হবে যেখানে আমি আগে গিয়েছিলাম—আমি আবারও সেখানে যাব।’

সূত্র: এনডিটিভি, নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

Social Icons