GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / সৌদির ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমার আশঙ্কা

সৌদির ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ, বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমার আশঙ্কা

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটি চালু করা না গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। খবর রয়টার্সের।

সৌদি আরবের এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের তীরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠানো হয়। পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরের মজুত দিয়ে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট তিনটি শিল্প সূত্র।

সৌদি আরবের বিকল্প হিসেবে মিসরের লোহিত সাগরের আইন সোখনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরি বন্দর থেকেও কয়েক দিন তেল সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এসব বন্দরের মজুতও সীমিত। ফলে ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে বিকল্প মজুতও শেষ হয়ে যেতে পারে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ইয়ানবু বন্দরে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সোখনা ও সিদি কেরি বন্দরে যথাক্রমে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ২ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণ করা যায়। তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়।

রয়টার্সকে দেওয়া বিভিন্ন সূত্রের তথ্যে পাইপলাইন মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্ন ধারণা পাওয়া গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্য একটি সূত্রের দাবি, এর চেয়েও কম সময়ে মেরামত সম্ভব। একই সঙ্গে মেরামতের সময় পাইপলাইনটি আংশিকভাবে চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

সৌদি আরব গত সপ্তাহে ওপেককে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ৯ লাখ ব্যারেল থাকলেও আগস্টে তা কমে ৬২ লাখ ব্যারেলে নেমেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল প্রবাহ কমে দৈনিক ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

Social Icons