দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের মধ্যে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বেড়ে ১,৫৯৮ টাকা হয়েছে। নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগে বাড়ছে ভোক্তাদের দুর্ভোগ।
দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে আবারও বাড়ানো হয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ৫ টাকা ৮৫ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
এদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত দামে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক এলাকায় একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি
রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরেই পাইপলাইনে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গৃহিণী, কর্মজীবী মানুষ এবং ছোট শিশু থাকা পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে এলপিজি, বৈদ্যুতিক ইনডাকশন চুলা কিংবা বাইরে থেকে খাবার কিনে খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন।
নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি
ভোক্তাদের দাবি, সরকারি মূল্য নির্ধারণ থাকলেও অধিকাংশ ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা সেই দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন না। ফলে নতুন মূল্য বৃদ্ধির পর বাজারে প্রকৃত দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বিকল্প জ্বালানির খরচও বাড়ছে
পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি কেউ কেউ ইলেকট্রিক ইনডাকশন কুকার বা কেরোসিন স্টোভ ব্যবহার করছেন। এতে মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে।
শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও প্রভাব
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উৎপাদন খাতেও পড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলএনজি সরবরাহে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ দেশের মোট চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময় জানানো সম্ভব নয়। ফলে আপাতত ভোক্তাদের এই দুর্ভোগ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







