পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা, দোয়া ও গণতন্ত্রের বার্তা—প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দিনটি যেন নতুন করে দায়িত্বের কথাই মনে করিয়ে দিল।
কোরআন তেলাওয়াত ও শহীদ স্মরণ

হাইকমিশনের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে পালিত হয় এক মিনিট নীরবতা। উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং পাকিস্তানি নাগরিকরা।
রাষ্ট্রীয় বাণী পাঠ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যাতে দিনটির প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
আলোচনায় ছাত্র-জনতার ভূমিকা
আলোচনায় সার্ক চেম্বার্স উইমেন এন্টারপ্রেনার কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হিনা মনসাব খান, রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন চৌধুরী এবং হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচকরা জুলাই পুণর্জাগরণে ছাত্র-জনতার ভূমিকা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র চর্চা
হাইকমিশনার বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট গৌরবের দিন—বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। তিনি রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে বৈষম্যমুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করার গুরুত্বও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
আরও বলা হয়, বৈষম্যমুক্ত ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত
আলোচনা শেষে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রবাসের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একাত্মতা ও দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় করে বলে মনে করছেন উপস্থিতরা।
প্রশ্ন-উত্তর
১) কোথায় পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস?
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে হাইকমিশন প্রাঙ্গণ ও সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠান হয়।
২) অনুষ্ঠানে কী কী ছিল?
কোরআন তেলাওয়াত, শহীদদের স্মরণে নীরবতা, রাষ্ট্রীয় বাণী পাঠ এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ছিল।
৩) প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্ব কী?
দিবসটির মাধ্যমে গণতন্ত্র ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের বার্তা প্রবাসেও ছড়িয়ে পড়ে, একই সঙ্গে একাত্মতা জোরালো হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









