GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / প্রিয় ইমামকে ওমরাহ উপহার, বিদায়ে আবেগঘন মুহূর্ত

প্রিয় ইমামকে ওমরাহ উপহার, বিদায়ে আবেগঘন মুহূর্ত

প্রিয় ইমামকে ওমরাহ যাত্রার আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে দোয়া ও ফুলেল শুভেচ্ছা

বুধবার দারিয়াকান্দা গ্রামের জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রিয় ইমাম হাফেজ আব্দুল কদ্দুসের বিদায় ঘিরে জমেছিল আবেগঘন আয়োজন। শত শত মুসল্লি, গ্রামের মানুষ ও প্রবাসীদের উপস্থিতিতে দোয়া আর শুভেচ্ছায় ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত—এবার তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন সৌদি আরবে।

দীর্ঘ ৫৫ বছরের ইমামতির স্মৃতি

প্রিয় ইমামকে ওমরাহ যাত্রার আগে মসজিদ প্রাঙ্গণে দোয়া ও ফুলেল শুভেচ্ছা

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালে তরুণ বয়সে মসজিদটির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন হাফেজ আব্দুল কদ্দুস। এরপর টানা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি, জুমার খুতবা, শিশুদের কোরআন শিক্ষা, জানাজা, বিয়ে, এমনকি পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির মতো নানা দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

তার হাত ধরেই গ্রামের অনেক শিশু কোরআন শিক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে জানান এলাকার লোকজন। প্রবাসী-স্থানীয়—সবাই বলছে, তিনি শুধু নামাজের সময়টুকুতে থাকেননি; মানুষের জীবনের পথচলাতেও তিনি ছিলেন দিকনির্দেশক।

আলাদা করে নয়, ভালোবাসার স্বীকৃতি হিসেবে ওমরাহ উপহার

ওমরাহ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, যিনি জীবনের দীর্ঘ সময়ে আল্লাহর ঘরে মানুষের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই ছিল মূল লক্ষ্য। গ্রামের মানুষ, প্রবাসী ভাই ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় তাকে ওমরাহে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে এলাকাবাসীর অর্থায়নে।

তাদের প্রত্যাশা, সমাজে ভালো কাজকে সম্মান দেওয়ার সংস্কৃতি আরও শক্ত হবে। ইমাম সাহেবের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষের প্রতি সম্মান জানাতে পেরে তারা নিজেদের সৌভাগ্যই মনে করছেন।

বৃষ্টি-ঝড়েও মসজিদে নিয়মিত ইমামতি

নিয়মিত মুসল্লি মো. আব্দুল জলিল বলেন, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা অসুস্থতা—কোনো কিছুই ইমাম সাহেবকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যতদিন সম্ভব তিনি নিজেই আজান শুনে মসজিদে চলে এসেছেন। এমন দায়িত্বশীল মানুষ পাওয়া তাদের জন্য সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয় বলে জানান তিনি।

বিদায়ের আগে আবেগভরা বক্তব্য

বিদায়ের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হাফেজ আব্দুল কদ্দুস বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি গ্রামের মানুষ তাকে এভাবে সম্মানিত করবে। ১৯৭১ সাল থেকে এই মসজিদে ইমামতি করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর ঘরে গিয়ে দেশ, জাতি এবং এলাকার সব মানুষের জন্য দোয়া করবেন। যারা এই সুযোগ করে দিয়েছেন, তাদের জন্যও উত্তম প্রতিদান কামনা করেন তিনি।

ইমামের পরিবারের সদস্যরা বলেন, মানুষের ভালোবাসার এমন সম্মান শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়; পুরো এলাকার জন্যই গর্বের। নীরবে মানুষের সেবা করে যাওয়া মানুষকে সম্মান করার এমন উদ্যোগ অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে বলে তাদের বিশ্বাস।

প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই আয়োজন প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও এক ধরনের বার্তা—দূর থেকে পাঠানো ভালোবাসা কখনো কমে না। বিশেষ করে একই গ্রামের একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষকে ওমরাহের সুযোগ করে দিতে পরিবার-প্রতিবেশী-প্রবাসী একসঙ্গে এগিয়ে এলে তা শুধু ধর্মীয় সফর নয়, সামাজিক বন্ধনেরও শক্ত প্রমাণ হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন-উত্তর

হাফেজ আব্দুল কদ্দুস কত বছর ইমামতি করেছেন?
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৭১ সাল থেকে টানা ৫৫ বছর ইমামতি করে আসছেন।

ওমরাহ পাঠানোর উদ্যোগ কে নিয়েছে?
এলাকাবাসী, প্রবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে।

বিদায়ের সময় কী ধরনের পরিবেশ তৈরি হয়?
মসজিদ প্রাঙ্গণে ফুলেল শুভেচ্ছা, দোয়া ও শুভকামনায় পরিবেশটি ছিল আবেগঘন।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons