যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চার দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়েছে ঐক্য ও মানবসেবার প্রত্যয় নিয়ে। ট্রপিকানা রিসোর্টে আয়োজিত এই আয়োজন উত্তর আমেরিকার চিকিৎসকদের অর্জিত জ্ঞানকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণে কাজে লাগানোর পথ খুঁজেছে।
৫ শতাধিক চিকিৎসক-অতিথির অংশগ্রহণ

ট্রপিকানা রিসোর্টে চার দিনের এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক, তাঁদের পরিবার, শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা ও অতিথি অংশ নেন। এর ফলে প্রবাসী চিকিৎসক সমাজের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় আরও সুসংহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
জ্ঞান-অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর অঙ্গীকার
সম্মেলনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি চিকিৎসকদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কীভাবে বাংলাদেশসহ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও মানবিক কল্যাণে রূপ দেওয়া যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার চিকিৎসক সমাজের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও পেশাগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
নেতৃত্ব ও আয়োজনের সমন্বয়
সেন্ট্রাল বিএমএএনএর সভাপতি ডা. ফজলুল ইউসুফের সভাপতিত্বে সম্মেলনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কনভেনর হিসেবে ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার এবং চিফ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে ডা. জামালউদ্দিন নেতৃত্ব দেন। বিভিন্ন কমিটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় আয়োজন সম্পন্ন হয়, এবং সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সেক্রেটারি ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান।
বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা
সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ জার্সির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড. ডেল জি. ক্যাল্ডওয়েল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, চিকিৎসা শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. কর্নাড ফিশার, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন এবং নাগরিক সংগঠন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোবায়দা রহমান এবং হৃদরোগ সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির। চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্য, মানবিক নেতৃত্ব, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ থেকেও শক্ত উপস্থিতি
বাংলাদেশ থেকে আগত কয়েকজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও অতিথিও সম্মেলনে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস শাকুর খান, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রফেসর আলী হোসেন, প্রফেসর রহমানউল্লাহ বারী, গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের ড. আরমান সিদ্দিকী এবং গ্রামীণ কল্যাণের মঈনুদ্দিন চৌধুরী।
বৈজ্ঞানিক আয়োজন ও নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা
চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতাদের অংশগ্রহণে সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম ছিল অন্যতম আকর্ষণ। সম্মেলন উপলক্ষে প্রকাশিত মেডিকেল জার্নাল ও কনভেনশন স্যুভেনিরে চিকিৎসাবিষয়ক প্রবন্ধের পাশাপাশি সেন্ট্রাল বিএমএএনএর কার্যক্রম, সংগঠনের ইতিহাস এবং সদস্যদের সাফল্য তুলে ধরা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি শুধু একটি সমাবেশ নয়; স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষতা বিনিময়, ভবিষ্যৎ উদ্যোগের নেটওয়ার্ক তৈরিরও একটি প্ল্যাটফর্ম।
প্রশ্ন: সম্মেলনটি কোথায় এবং কতদিনের ছিল?
উত্তর: এটি ট্রপিকানা রিসোর্টে চার দিনব্যাপী আটলান্টিক সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন: কারা অংশ নিয়েছেন?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে পাঁচ শতাধিক চিকিৎসকসহ পরিবার, শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা ও অতিথিরা অংশ নেন।
প্রশ্ন: সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় কী ছিল?
উত্তর: জ্ঞান-অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও মানবিক কল্যাণে সহযোগিতা, গবেষণা ও পেশাগত সংযোগ জোরদার করা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









