প্রতিটি মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা জোরদার করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য বিক্রি সহজ করতে দক্ষতা, ডিজাইনিং ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগের কথাও উঠে আসে বুয়েটে আলোচনায়।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পণ্য বিক্রি বাড়াতে সহায়তা

বুয়েটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী জানান, আগে যেসব পণ্য তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হতো, সেগুলোতে দক্ষতা ও ডিজাইনিং সহায়তা যোগ হলে দাম ও বাজার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। ফলে উৎপাদকরা আরও ভালোভাবে নিজেদের অবস্থান দাঁড় করাতে পারবেন।
তিনি বলেন, এসব পণ্য অনলাইনে রিয়েল টাইমে বিক্রির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উৎপাদকদের জন্য বাজারে পৌঁছানোই হবে বড় সুবিধা। প্রবাসী পরিবারেও অনেকে এ ধরনের ক্ষুদ্র উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকেন; তাই আয় ও কর্মসংস্থান টেকসই হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
সৃজনশীল খাতকে মনিটাইজেশনের আওতায়
অর্থমন্ত্রী জানান, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীতসহ সৃজনশীল খাতের মানুষের ক্ষেত্রেও মনিটাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কাজের মূল্য নিশ্চিত করা গেলে সেই খাতের কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদিভাবে আয়ের পথে এগোতে পারবেন।
জন্ম থেকে মৃত্যু—প্রতিটি পর্যায়ে সহায়তা
রাষ্ট্রের দায়িত্বের জায়গাটা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, নারীর ভাগ্য পরিবর্তন, শিশুর ভাগ্য পরিবর্তন ও শ্রমিকের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের চেতনা ও আন্দোলনের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং নিম্নআয়ের সহায়তা
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ। অর্থাৎ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে, সেই জন্য বাজেটে সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেটি আগে কখনো হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রকল্প ও আর্থিক দায়ের মধ্যেও কৃষক কার্ড, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য—সমাজের একেবারে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
ফ্যামিলি কার্ড: নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রসঙ্গ
ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একজন নারী সারাদিন পরিবারের জন্য কাজ করলেও তার চাকরি থাকে না; ফলে পরিবার ও সমাজে তার যথাযথ সম্মান থাকে না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ওই নারীর হাতে অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এর ফলে শুধু পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা নয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পুষ্টিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনা ধরে নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি করতে পারলে আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগের মূল্য বাস্তবে প্রতিফলিত হবে।
প্রশ্ন-উত্তর
এই উদ্যোগগুলো কাদের জন্য?
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, সৃজনশীল খাতের মানুষ এবং নিম্নআয়ের মানুষ—বিশেষ করে নারীদের জন্য সহায়তার কথাই বেশি এসেছে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য কী?
পণ্য উৎপাদনকারীদের বাজারে দ্রুত পৌঁছানো এবং রিয়েল টাইম বিক্রির সুযোগ তৈরি করা।
ফ্যামিলি কার্ড কেন গুরুত্ব পাচ্ছে?
পরিবারে কাজ করা নারীর হাতে সরাসরি অর্থনৈতিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়টিই আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









