নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদফতর।
কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে জালিয়াতি, ধান সংগ্রহে অনিয়ম এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ দেখিয়ে বিল পরিশোধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
একই সাথে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ আগস্ট তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এরই মধ্যে গত ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদফতরের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত পৃথক এক আদেশে নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে বদলি করে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, মহা-পরিচালকের নির্দেশে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সরেজমিনে বিরিশিরি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করে কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন ও যাচাই ছাড়াই ধান সংগ্রহের প্রমাণ পান।
তদন্তে উন্মোচিত হয় যে, অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম একটি স্থানীয় সিন্ডিকেটের সুবিধা স্বার্থে এনআইডির ভিত্তিতে অসচ্ছ উপায়ে খাদ্য শস্য ক্রয় সম্পন্ন করেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে নেত্রকোনায় চাল ও ধান কেলেঙ্কারির একাধিক ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে মদনে দুই দফায় পাচারকালে ২৫ টন সরকারি চাল এবং কেন্দুয়ায় ১৩ হাজার কেজির বেশি চাল জব্দ করা হয়।
বরখাস্তের বিষয়ে কথা বলতে মো. মেহেদী ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়, অন্যদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান তার বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করেছেন।


