GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / শেষ পাতা / নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিলের নেপথ্যে কারা? বিপু নাসিরসহ যাদের নাম এলো

নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিলের নেপথ্যে কারা? বিপু নাসিরসহ যাদের নাম এলো

নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিলের নেপথ্যে কারা বিপু নাসিরসহ যাদের নাম এলো

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় অর্থায়নের নেপথ্যে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ একাধিক প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নগদ অর্থ ও যাতায়াত খরচ দেওয়া হচ্ছে। অর্থের উৎস এবং লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল ও গ্রেফতার

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার দিন ও পরদিন অভিযান চালিয়ে মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়া ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর ডিএমপির বিশেষ অভিযানে আরও ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগের ৭২ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

গুলশানের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার তদন্তে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মিছিলে অংশ নিলেই নগদ টাকা

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, নগরীতে আকস্মিক মিছিল বের করে আতঙ্ক তৈরির জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অর্থের বিনিময়ে সংগঠিত করা হচ্ছে।

মিছিলে অংশ নিতে আসা কর্মীদের দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ টাকা এবং যাতায়াত খরচ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

নেপথ্যে থাকা নেতাদের প্রতিনিধি ও সহযোগীরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অর্থ লেনদেন তদারকি করছেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য এসেছে।

হুন্ডি, বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

বিপু নাসিরসহ একাধিক নেতার নাম

গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, ঝটিকা মিছিলের অর্থায়ন ও ইন্ধনের সঙ্গে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

আগস্টে ১৪৩ ঝটিকা মিছিল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে সারা দেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ১৪৩টি ঝটিকা মিছিল করা হয়।

এসব ঘটনায় ৪৩টি মামলা হয়েছে এবং ২০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ৯ দিনে ছাত্রলীগের ৩১টি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ৫০ জন।

অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১০ দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২২টি ঝটিকা মিছিল ও একটি গোপন বৈঠকসহ আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নসংক্রান্ত ৩৬টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের সময় আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থায়ন ও পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি এবং তাদের পেছনে থাকা অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে নতুন দাবি

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অন্যদিকে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে তারা মনে করছে।

গোয়েন্দাদের ভাষ্য, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ঝটিকা মিছিলগুলো সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখতে তাদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে।

নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অর্থায়নের অভিযোগ

গুলশানের মিছিলের অর্থায়নে নাম আসা নাসির উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

গুলশানের ঝটিকা মিছিলের অর্থায়ন, মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সংগঠিত করা এবং এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এখন অর্থ লেনদেনের তথ্য ও গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Social Icons