জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার রায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে।
সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৮ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
মামলায় আসামি আরও যারা
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
এ ছাড়া যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানও এ মামলার আসামি।
অর্থাৎ মঙ্গলবার মোট সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে।
সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন
মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাইয়ের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
মামলায় দাখিল করা বিভিন্ন অডিও ও ভিডিওতে এসব পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালানো হয় এবং এতে বহু মানুষ নিহত হন।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে নজর
গত ১৮ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর থেকেই মামলাটির রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। এবার ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রসিকিউশন যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আবেদন জানিয়েছে, সেখানে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের রায়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।







