বরিশাল বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বড় একটি অংশের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬ হাজার ২৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৭১টি স্কুলভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবনের অনেকগুলোতেই প্রতিদিন ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কারের দাবি জানানো হলেও অনেক বিদ্যালয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার কিছু বিদ্যালয়ের ছাদের রড বের হয়ে গেছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে।
অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও আসবাবপত্রও নেই। ফলে কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের মেঝেতে বসে পাঠ নিতে হচ্ছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন অভিভাবক জানান, সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন থাকেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
১৯৯৭ সালে নির্মিত ভবনেও বেহাল দশা
বাবুগঞ্জ উপজেলার ছানিকেদারপুর স্কুলের অবস্থাও নাজুক। স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৭ সালে ভবনটি নির্মাণের পর থেকে তেমন কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় বর্তমানে সেখানে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ের অবস্থাও একই রকম বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ছানিকেদারপুর স্কুলসহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ভবন দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বরিশাল জেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল
বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় মোট ৮৭১টি স্কুলভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে বরিশাল জেলায়।
জেলা ভিত্তিক হিসাবে বরিশালে ৩২০টি, ঝালকাঠিতে ৮৫টি, ভোলায় ১১৫টি, পটুয়াখালীতে ২২টি, পিরোজপুরে ১৯৯টি এবং বরগুনায় ১৩২টি স্কুলভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিদ্যালয়ের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর।
বর্ষায় বাড়ে ভোগান্তি
একাধিক শিক্ষক জানান, ভবনের দুরবস্থার কারণে বর্ষাকালে পাঠদান সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়। বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে হয়।
কিছু বিদ্যালয়ের ভবন ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণার উপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিকল্প ভবন বা নতুন ভবন তৈরি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে পুরোনো ভবনেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
সংস্কার ও নতুন ভবনের উদ্যোগের কথা
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে।
বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলভবনগুলো চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব বিদ্যালয়ের সংস্কার এবং নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।








