ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা রয়েছে ইরানি প্রতিনিধিদলের।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পড়ার পর দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে পেজেশকিয়ানই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।
প্রতিনিধিদলের কয়েকজনকে ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে প্রেসিডেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারছেন না। তাদের মধ্যে পেজেশকিয়ানের যোগাযোগ দলের সদস্যরাও রয়েছেন।
ইরানি বার্তা সংস্থা মেহেরও দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে একই তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে জানানো হয়েছে, বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘তথ্য পাওয়ার অধিকার পদদলিত করার’ অভিযোগ করেছেন।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের সংবাদ পরিবেশন নিয়ে আপত্তির কারণে কয়েকটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
ইরানি প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিধিনিষেধ
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিলাসপণ্যসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কিনতে পারবেন না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওই প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে রোববার সন্ধ্যায় ইরান ছাড়েন। তিনি কাতারে যাত্রাবিরতি করবেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা
ইরান জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের নৌপথ পুনরায় চালুর শর্ত জানিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই নৌপথ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পালটা অবরোধ চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড









