সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে ছয় দিন এবং তার গাড়িচালক গোলাম মাওলা সেলিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
১০ দিনের রিমান্ড আবেদন
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান খান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মিতা ও তার গাড়িচালকের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের অভিযোগ
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ দাবি করেছে, আসামিরা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান ও ককটেল বিস্ফোরণে জড়িত ছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার মূল পরিকল্পনা উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত এবং ককটেল-বোমার উৎস সম্পর্কে তথ্য জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
যে ঘটনায় মামলা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ জুন সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে মাহফুজুর রহমান মিতা ও তার গাড়িচালককে আটক করা হয়েছিল বলে বাসসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রিমান্ড আবেদনে পুলিশের পিসিপিআরে মিতার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে আরও তিনটি মামলার তথ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
