GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রথম পাতা / বন্ড সুবিধার নামে রাজস্ব ফাঁকি, চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাস্টমস মামলা

বন্ড সুবিধার নামে রাজস্ব ফাঁকি, চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাস্টমস মামলা

বন্ড সুবিধার নামে রাজস্ব ফাঁকি, চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাস্টমস মামলা

গত এক মাসে চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাপড় নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনে মামলা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইনটিগ্রা অ্যাপারেলস লিমিটেড, ভ্যালমন্ট ফ্যাশন লিমিটেড, বিএসপি ইন্ডা. (বিডি) প্রাইভেট লিমিটেড এবং ট্রাউজার ল্যান্ড বিডি লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযানে দেখা যায়, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা ফ্যাব্রিক নির্ধারিত বন্ডেড ওয়্যারহাউজে নেই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আমদানি করা কাপড়ের একটি অংশ নিয়ম না মেনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ইনটিগ্রা অ্যাপারেলসের প্রায় ৩০ কোটি টাকা, ভ্যালমন্ট ফ্যাশনের ৫০ কোটি টাকা, বিএসপি ইন্ডা. (বিডি) প্রাইভেট লিমিটেডের ৩৫ লাখ টাকা এবং ট্রাউজার ল্যান্ড বিডির ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

ভ্যালমন্ট ফ্যাশনের রপ্তানি নিয়ে প্রশ্ন

চলতি মাসের শুরুতে ভ্যালমন্ট ফ্যাশন লিমিটেডের খালি কনটেইনার রপ্তানির তথ্যও শনাক্ত করে শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে পাঁচটি চালানের জন্য রপ্তানি বিল অব এক্সপোর্ট জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে পণ্যের মোট ওজন দেখানো হয় ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি। রপ্তানি মূল্য ঘোষণা করা হয় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার।

ঘোষণা অনুযায়ী, পণ্যগুলো চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো থেকে জাহাজে পাঠানোর কথা ছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দারা দেখতে পান, ঘোষিত ১২১ মেট্রিক টন পণ্যের কোনো অংশই ডিপোতে প্রবেশ করেনি।

অর্থাৎ নথিতে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানির তথ্য থাকলেও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট পণ্য ডিপোতে পাওয়া যায়নি।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকাতে নজরদারি

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার, মজুত, উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে গত মাসে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিআইএন সাসপেন্ড করা হয়েছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত নিয়মে ব্যবহার না করা, হিসাবের অসঙ্গতি এবং শুল্ক-কর ফাঁকির মতো অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বন্ড কমিশনারেটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি বাড়াতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়। তবে এই সুবিধার অপব্যবহার করে যাতে কেউ রাজস্ব ফাঁকি দিতে না পারে, সে জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের আমদানি, কাঁচামাল ব্যবহার, উৎপাদন ও রপ্তানির তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সরেজমিন অভিযান চালানো হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নীতিগত ফাঁক বন্ধের দাবি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের কারণে স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার দাবি, ঢাকার ইসলামপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর কাপড়ের বাজারে বন্ডের কাপড় ঢুকছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধে কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নীতিগত ফাঁকফোকরও বন্ধ করতে হবে

শওকত আজিজ রাসেল আরও বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টস খাতে ৩২ শতাংশ ফ্যাব্রিকস অপচয়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশ। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন ব্যবহারের কারণে বর্তমানে কাপড়ের অপচয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার কথা।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই অপচয় সুবিধার আওতায় থাকা কাপড় নিয়মের মধ্যে থেকেই খোলাবাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি করছে। পাশাপাশি ফ্রি অব কস্ট বা এফওসি সীমা বাড়ানোর আলোচনা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তার মতে, এফওসি সীমা বাড়লে স্থানীয় স্পিনিং, টেক্সটাইল মিল ও অ্যাক্সেসরিজ কারখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন দেশীয় শিল্পের পরিবর্তে বিদেশ থেকে আরও বেশি পণ্য আনার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

Social Icons