দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে (এনবিএফআই) খেলাপি ঋণের পরিমাণ পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তিন মাসে এ খাতে খেলাপি ঋণ ৫৬২ কোটি টাকা বেড়ে মোট বকেয়া ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এনবিএফআই সংক্রান্ত সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে এনবিএফআই খাতের মোট বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২৭ হাজার ২৫১ কোটি টাকা বা ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
এর আগে গত মার্চ প্রান্তিক শেষে এ খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা, যা থেকে তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের অঙ্ক ৫৫৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে তিন মাসের হিসাবে খেলাপি ঋণের পরিধি বাড়লেও এক বছরের ব্যবধানে তা কিছুটা ইতিবাচক ধারায় এসেছে; কারণ ২০২৫ সালের জুন প্রান্তিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ২৭ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা।
ফলে বার্ষিক হিসাব বিচারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ২৯০ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার ও খেলাপিকৃত আমানত আদায়ে কঠোর তদারকি ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
