কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচ দিনের সময়সীমা দিয়েছে ইরান। দেশটির শর্ত মেনে না নিলে প্রণালিটি বন্ধই থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রেজাই বলেন, জাতিসংঘের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ওয়াশিংটন এসব শর্ত মেনে না নিলে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। একই সঙ্গে শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলেও জানান তিনি।
আলোচনার আগে আস্থা পুনর্গঠনের দাবি
মোহসেন রেজাই বলেন, হরমুজ প্রণালি আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ‘নিশ্চয়তা’ হিসেবে কাজ করছে। আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে আবারও আস্থা তৈরি করতে হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান আগের কূটনৈতিক অবস্থানে ফিরে যাবে না। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আগের শর্তও আর গ্রহণ করবে না তেহরান।
এক বিবৃতিতে রেজাই বলেন, ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং দেশটি যে নতুন কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে, তা পূর্ণ শক্তিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত মানার আহ্বান
ইরানের এই অবস্থানের মূল বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে নিতে হবে। শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছেন রেজাই।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ফলে এই নৌপথ নিয়ে ইরানের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করল ইরান
ইরানের বিমান চলাচল বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করা প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন মোহসেন রেজাই।
তিনি বলেন, ইরানের বিমানকে নিজেদের বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ না দিলে এসব দেশের বিমানবন্দর অচল করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।









