ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ঐতিহাসিক উজ্জয়ন শহরে ৬০০ বছরের পুরোনো শাহী মসজিদের একটি অংশ ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এলাকাটিতে ব্যাপক সংঘর্ষ ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৮ সালে উজ্জয়নে আয়োজিতব্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ‘সিংহস্থ কুম্ভ মেলা’র সার্বিক অবকাঠামোগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহৎ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় পৌর করপোরেশন। এই প্রকল্পের আওতেই ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদের চিহ্নিত একটি অংশ ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক উদ্যোগ নিলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন।
সংঘর্ষ চলাকালে ক্ষুব্ধ জনতা সরু গলি দিয়ে মসজিদের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশের সাথে ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়লে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া শুরু হলে ক্ষুব্ধ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এদিকে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রাচীন মসজিদটি ভাঙার তীব্র সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি। তিনি মধ্যপ্রদেশ সরকারের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “উন্নয়নের অজুহাতে ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলা চরম বিদ্বেষের নামান্তর। যেখানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, সেখানে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ চরম সংবেদনশীলতার অভাবকে প্রকাশ করে। উজ্জয়ন প্রশাসনের উচিত জনমতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সড়কের বিপরীত পাশ থেকে জমি অধিগ্রহণ করা।”
অন্যদিকে উজ্জয়ন পৌর করপোরেশনের চেয়ারপারসন কালাবতী যাদব এই মেগা প্রকল্পের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান, শিপ্রা নদীর তীরে প্রতি ১২ বছর পর পর আয়োজিত এই মহা কুম্ভ মেলায় কোটি কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে। সে কারণে শহরজুড়ে ২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাট, ডাইভারশন প্রকল্প, বাঁধ নির্মাণ এবং মোট ২৭২টি স্থাপনা চিহ্নিত করে সড়ক প্রশস্ত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে স্বয়ং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ওই এলাকার উন্নয়ন স্বার্থে নিজের পৈতৃক বাড়ির একটি অংশ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ভাঙার কাজে অংশ নিয়েছিলেন।
বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো শাহী মসজিদ সংলগ্ন এলাকাটি ঘিরে রেখেছে সশস্ত্র পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
