যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা জোনাথন ম্যাককিনসিকে (৪০) গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত জোনাথনের শৌইয়ং ঝাং ও শিলি চেন নামের প্রবীণ শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহত জোনাথন ম্যাককিনসি ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর ‘গেমস প্লেয়ার এক্সপেরিয়েন্স’ বিভাগের প্রকৌশল শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নিউইয়র্ক টাইমস কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শনিবার বিকেলে সান ফ্রান্সিসকো শহর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ডাবলিনের একটি শপিং সেন্টার বা বাণিজ্যিক এলাকার পার্কিং লটে একাধিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জোনাথনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে জোনাথনের ৭৭ বছর বয়সী শ্বশুর শৌইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে আটক করা হয়। স্থানীয় আদালত ও পুলিশের পক্ষ থেকে আটক প্রবীণ দম্পতির বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার (সর্বোচ্চ মাত্রার হত্যা), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চরম অবহেলার সাথে আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগ এবং মারাত্মক পরিস্থিতিতে শিশুকে বিপদে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আসাদ রাজাওয়ি স্থানীয় টেলিভিশন কেজিও-টিভিকে জানান, তিনি হঠাৎ পরপর বেশ কয়েকটি গুলির বিকট শব্দ শুনতে পান এবং জোনাথনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে তাঁর মেয়ে পুলিশকে জানায়, গুলি ছোড়ার পর ওই বয়স্ক দম্পতি অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাছেই অবস্থানরত এক টহল পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদের গ্রেপ্তার করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও জোনাথনকে সেখানেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
যদিও ডাবলিন পুলিশ এখন পর্যন্ত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বা উদ্দেশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেনি, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোনাথনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ক্যান্ডিস ঝাংয়ের (আটক দম্পতির মেয়ে) বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র পারিবারিক টানাপোড়েন ও বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই ওই বিচ্ছেদ মামলার আদালতের চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য ছিল।
