মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দুই সহপাঠীর ঝগড়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর এবং তিনবার আছাড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অপর এক শিক্ষার্থীর বাবার বিরুদ্ধে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় অভিযুক্ত অভিভাবক নাহিদ শেখকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সকালের প্রস্তুতিমূলক কুচকাওয়াজ শেষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজেদের শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করছিল। এর আগে বুধবার দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি বিষয়ে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। সেই ঘটনার জের ধরে নিজের ছেলে আতিকুর রহমানকে মারধর করা হয়েছে—এমন সন্দেহে বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে উপস্থিত হন তাঁর বাবা নাহিদ শেখ।
একপর্যায়ে নাহিদ শেখ সরাসরি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সহপাঠী হাবিবকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং পর পর তিনবার মেঝেতে আছাড় দেন। ক্লাসরুমে প্রকাশ্যে এমন তাণ্ডবে ভয় পেয়ে শিক্ষার্থীরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে শিক্ষকেরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার ভয়াবহতার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত অভিভাবককে নিজের কক্ষে নিয়ে গিয়ে সিরাজদিখান থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নাহিদ শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের অভিভাবক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝগড়ার বিষয়টি শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষককে না জানিয়ে অভিভাবকের এমন মারমুখী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা ঘোষ জানান, অভিযুক্ত অভিভাবক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং এই বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
