GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / ধর্ম ও সমাজ / ঈমানে অনুসরণীয় কারা? কোরআন-হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা

ঈমানে অনুসরণীয় কারা? কোরআন-হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, ঈমান গ্রহণ ও সৎকর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভের আশা করা যায়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ঈমানের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং হাদিসের আলোকে আলোচনা করেছেন লেখক বেলায়েত হুসাইন।

ঈমান ও সৎকর্মের প্রতিদান জান্নাত

পবিত্র কোরআনে ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। সুরা কাহাফের ১০৭ ও ১০৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং সেখান থেকে অন্য কোথাও যেতে চাইবে না।

ইসলামী বিশ্বাসে ঈমানের গুরুত্ব বোঝাতে এই আয়াতকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ঈমানের আদর্শ ও অনুসরণের পদ্ধতি সম্পর্কে সুরা বাকারা ১৩৭ নম্বর আয়াতেও নির্দেশনা রয়েছে।

রাসুল (সা.) ও সাহাবিদের মতো ঈমান আনার নির্দেশনা

সুরা বাকারার ১৩৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ যদি রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা যেভাবে ঈমান এনেছেন, সেভাবে ঈমান আনে, তাহলে তারা হেদায়েত লাভ করবে। আর তারা মুখ ফিরিয়ে নিলে বিরোধিতায় লিপ্ত হবে। আয়াতের শেষাংশে আল্লাহকে সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

লেখক বেলায়েত হুসাইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের ঈমান পরবর্তী মুমিনদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। তাঁর মতে, সাহাবিদের ঈমানের পদ্ধতি অনুসরণ করা হেদায়েত লাভের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।

সাহাবিদের আদর্শ নিয়ে হাদিসে কী বলা হয়েছে?

সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণের প্রসঙ্গে জামে তিরমিজিতে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন লেখক। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত ওই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের মধ্যে ৭৩টি দলে বিভক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি দল ছাড়া অন্য দলগুলোর পরিণতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সেই দল হলো যারা তাঁর এবং তাঁর সাহাবিদের আদর্শের ওপর থাকবে।

লেখকের আলোচনায় এই হাদিসকে সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণের গুরুত্ব বোঝানোর একটি দলিল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সাহাবিদের ঈমান নিয়ে কোরআনের বক্তব্য

সুরা বাকারার ১৩ নম্বর আয়াতেও সাহাবিদের মতো ঈমান আনার প্রসঙ্গ এসেছে। আয়াতটিতে বলা হয়েছে, মানুষকে যখন অন্যদের মতো ঈমান আনতে বলা হয়, তখন কেউ কেউ তাঁদের নির্বোধ বলে অভিহিত করে। এর জবাবে কোরআনে বলা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তারাই নির্বোধ, যদিও তারা তা উপলব্ধি করে না।

বেলায়েত হুসাইনের ব্যাখ্যায়, আয়াতটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ঈমান গ্রহণকারীদের প্রতি বিরূপ মনোভাবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে। তাঁর মতে, সাহাবায়ে কেরাম দুনিয়াবি বিবেচনায় কারও তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও আখিরাতের বাস্তবতায় তাঁদের মর্যাদা ও জ্ঞানকে অবমূল্যায়ন করা সঠিক নয়।

কোরআন-হাদিস সংরক্ষণে সাহাবিদের ভূমিকা

লেখকের মতে, সাহাবায়ে কেরামের সততা ও আমানতদারির ওপর আস্থা রাখা ইসলামী জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলে কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা হিজরের ৯ নম্বর আয়াত উল্লেখ করেছেন। আয়াতটিতে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোরআন অবতীর্ণ করা এবং তা সংরক্ষণের ঘোষণা রয়েছে।

লেখকের আলোচনায় সাহাবায়ে কেরামকে সেই ধারাবাহিকতার প্রথম প্রজন্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের মাধ্যমে ইসলামের মূল শিক্ষাগুলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছেছে।

হেদায়েত লাভে অনুসরণীয় আদর্শ

বেলায়েত হুসাইনের আলোচনার মূল বক্তব্য হলো, ঈমানের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারা ১৩ ও ১৩৭ নম্বর আয়াত এবং জামে তিরমিজিতে বর্ণিত হাদিসের আলোকে তিনি এ মত তুলে ধরেছেন।

লেখার শেষে তিনি আল্লাহর কাছে সঠিক উপলব্ধি ও হেদায়েত কামনা করেছেন।

Social Icons