জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহকে বিয়ে করার খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ভারতের পরিচিত টেলিভিশন সাংবাদিক নিধি রাজদান। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে কাজ করেছেন তিনি। সংবাদ উপস্থাপনার পাশাপাশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ ও লেখালেখিতেও রয়েছে তার পরিচিতি।
দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে নিধি রাজদানের সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
১৯৭৭ সালের ১১ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন নিধি রাজদান। তার বাবা মহারাজ কৃষ্ণ রাজদান ভারতের একজন প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি একসময় সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দিল্লির অ্যাপিজে স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে লেডি শ্রীরাম কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন নিধি। এরপর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব মাস কমিউনিকেশন (আইআইএমসি) থেকে রেডিও ও টেলিভিশন সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
এনডিটিভিতে দীর্ঘ ২১ বছরের ক্যারিয়ার
১৯৯৯ সালে এনডিটিভিতে যোগ দেন নিধি রাজদান। প্রায় ২১ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে সাংবাদিকতা করেন তিনি। এ সময়ে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এনডিটিভিতে কাজ করার সময় বেশ কয়েকটি পরিচিত অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নিধি। এর মধ্যে রয়েছে ‘লেফট, রাইট অ্যান্ড সেন্টার’, ‘ইন্ডিয়া ডিসাইডস ৯’, ‘দ্য লিড’ এবং ‘দ্য বিগ ফাইট’।
দীর্ঘ কর্মজীবনের পর ২০২০ সালের জুনে এনডিটিভি ছাড়েন তিনি।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র
টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন নিধি রাজদান।
তার কাজের বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর, তিব্বত এবং যুক্তরাজ্যে ট্রেন বোমা হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি। এসব কাজের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।
লেখক হিসেবেও পরিচিতি
সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখালেখিতেও সক্রিয় নিধি। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় তার বই ‘লেফট, রাইট অ্যান্ড সেন্টার: দ্য আইডিয়া অব ইন্ডিয়া’। বইটি সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে।
সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। জম্মু-কাশ্মীর ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রতিবেদন তৈরির জন্য রামনাথ গোয়েঙ্কা অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন জার্নালিজম অর্জন করেন।
এ ছাড়া কাঠুয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট অ্যাওয়ার্ড পান নিধি।
আগের বিয়ে ও ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে নতুন অধ্যায়
ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৫ সালে সাংবাদিক ও লেখক নীলেশ মিশ্রকে বিয়ে করেছিলেন নিধি রাজদান। তবে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০০৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে নিধি রাজদানের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওমর আবদুল্লাহ লেখেন, ‘গতকাল থেকে নতুন এক যাত্রা শুরু হলো।’ একই মাধ্যমে নিধিও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে তাদের পরিচয় কীভাবে হয়েছিল, সে বিষয়ে দুজনের কেউই বিস্তারিত কিছু জানাননি।








