আবারও তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে টানাপোড়েন ও নৌপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দর ফের উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
তেলের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকেছে

এর আগে গত বুধবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে পৌঁছায়। তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি বদলে গিয়ে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়—বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি সামনে চলে আসায়।
লোহিত সাগরে হামলার প্রভাব
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলা লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী জানায়, সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’র ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের দাবি—ঘোষিত নৌ-অবরোধ অমান্য করায় এই হামলা। হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে উল্লেখ আছে। একটি ট্যাংকারে আগুন ধরার কথাও এসেছে।
হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা, চাপ বাড়ছে
লোহিত সাগরের উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম অস্থিরতাও তেলের দামে প্রভাব ফেলছে। অতীতে দেখা গেছে, এ ধরনের সংঘাত বা সমঝোতা ভেঙে গেলে জ্বালানি সরবরাহ-ঝুঁকি দ্রুত দামের মধ্যে প্রতিফলিত হয়।
মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলার পর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলার ছাড়ায়। তখন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি প্রায় বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে কয়েক ধাপে দাম ওঠানামা করলেও আবার নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা
এত উচ্চতায় তেলের দাম উঠলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ, তেলের দামের সাথে পরিবহন, উৎপাদন ও সার্বিক ব্যয়—সবকিছুরই সরাসরি সংযোগ থাকে।
ফলে প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর প্রভাবের ঝুঁকিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও দীর্ঘ হতে পারে—এই ভাবনাই এখন জোরালো।
তেল নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ার মূল কারণ কী?
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়া এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ ঘিরে সরবরাহ ঝুঁকি—দুটো মিলেই চাপ তৈরি করছে।
গত কয়েক মাসে দাম কীভাবে বদলেছে?
কিছু সময় দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমেছিল, পরে সমঝোতা ভেঙে নতুন সংঘাত শুরু হলে আবার দ্রুত বাড়ে।
এতে কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি আমদানি নির্ভর অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন খরচে জ্বালানি-নির্ভর খাতে চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









