বঙ্গোপসাগরে প্রায় এক মাস ভেসে থাকার পর উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলে—বাবা-ছেলে—এখন সেফ হোমে। কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূল থেকে উদ্ধার করার পর আদালতের নির্দেশে তাঁদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন জায়গায় রাখা হচ্ছে।
কাঁচা মাছ খেয়েই বেঁচে ছিলেন

মজুত খাবার শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের বাঁচিয়ে রেখেছিল বড়শির টোপ ও সমুদ্র থেকে ধরা কাঁচা মাছ। টানা প্রায় এক মাস সাগরে ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা শেষে মহেশখালী উপকূলের কাছে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া বাবা-ছেলে হলেন শ্রীলঙ্কার এস এইচ চামিন্দা এবং তাঁর ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। দুজনই জেলে এবং ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডের বাসিন্দা।
আদালতের নির্দেশে সেফ হোমে
মহেশখালী থানার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে। এরপর তাঁদের মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন—নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত তাঁদের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সেফ হোমে রাখা হবে।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী আজ সোমবার তাঁদের সেফ হোমে পাঠানোর কথা।
আগামীকাল ঢাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ওই দুই শ্রীলঙ্কান জেলেকে সড়কপথে ঢাকায় নেওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের শ্রীলঙ্কায় ফেরত পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে তাঁদের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ছোট ট্রলারটি শ্রীলঙ্কায় পাঠানো যাচ্ছে না। হাজার হাজার কিলোমিটার উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এটি নেওয়া সম্ভব নয়—এমন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রলারটি বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ
ট্রলারটি যিনি গভীর সমুদ্র থেকে রশি দিয়ে বেঁধে মহেশখালী উপকূলে এনেছেন, আদালত তাঁকে ট্রলারটি বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রলারমালিক জিয়াউর রহমান জানিয়েছিলেন—উক্ত নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে তাঁরা সাগরে যান ৩৬ দিন আগে। পরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশের উপকূলে চলে আসে।
কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের পরিবারের কাছে শ্রীলঙ্কার দুই জেলে থাকার কথা বলেছে উদ্ধার-পরবর্তী প্রক্রিয়ার তথ্য। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় ইঞ্জিন বিকল ট্রলারের জেলেদের নজরে আসার পর তাঁদের উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে তোলা হয় এবং রশি দিয়ে বেঁধে মহেশখালী উপকূলে আনা হয়।
প্রবাসীদের জন্য প্রশ্ন
কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকা ওই বাবা-ছেলে এখন কোথায়? আদালতের নির্দেশে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সেফ হোমে তাঁদের রাখা হচ্ছে।
ঢাকায় নেওয়া হবে কবে? আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে সড়কপথে ঢাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
ট্রলারটি কেন শ্রীলঙ্কায় যাবে না? হাজার হাজার কিলোমিটার উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এটি পাঠানো সম্ভব নয়—এমন যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









