লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের নতুন কমিটি দেওয়ার একদিন পার না হতেই ১৬ নেতা পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া, জ্যেষ্ঠদের মূল্যায়ন না করা এবং টাকা লেনদেনের অভিযোগ—এই কয়েকটি বিষয় সামনে এনে তারা পদত্যাগ করেন।
নতুন কমিটি ঘিরে পদত্যাগ

সোমবার সন্ধ্যায় যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও হারুনুর রশিদ এই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদত্যাগকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে ৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হারুনকে ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্র বলছে, রোববার রাতে ফেসবুকে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে সম্মেলনও হয়েছে। কমিটি দেওয়ার পর দ্রুতই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে; ফলে ছয় যুগ্ম আহ্বায়কসহ মোট ১৬ জন পদত্যাগ করেন।
‘টাকার বিনিময়ে কমিটি’ অভিযোগ
পদত্যাগকারী হারুনুর রশিদ অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যারা দুর্দিনে রাজপথে থেকে ত্যাগী ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জুনিয়রদের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে, আর সিনিয়ররা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
হারুনুর রশিদের বক্তব্য অনুযায়ী, এতে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে মান-অভিমান তৈরি হয়েছে। এই টানাপোড়েনই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ পর্যন্ত গড়িয়েছে।
‘প্রবাসীরা দায়িত্বে’—জাহাঙ্গীরের দাবি
পদত্যাগকারী জাহাঙ্গীর আলমও একই ধরনের অসন্তোষের কথা বলেন। তার ভাষ্য, নতুন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই কমিটিতে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব—দুজনই প্রবাসী।
তবে টাকা কত লেনদেন হয়েছে—এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি। তার বক্তব্যে অভিযোগের দিকটা ছিল দায়িত্বপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন ঘিরে, সংখ্যাটি নয়।
দলের ভেতরে বসে আলোচনা হবে
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল মুকিত সোহেল বলেন, সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে মান-অভিমান রয়েছে। তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও বলেন, টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।
এ ঘটনায় কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা এখন জোরালো। পদত্যাগকারীরা যেমন অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে দলীয় নেতারা বলছেন—আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সমাধান সম্ভব।
প্রশ্ন-উত্তর
পদত্যাগ করা ১৬ নেতার মধ্যে কারা ছিলেন?
জাহাঙ্গীর আলম ৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে এবং হারুনুর রশিদ ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বাকিদের অবস্থানও যুগ্ম আহ্বায়কসহ কমিটির ভেতরের বিভিন্ন পদে ছিল।
তারা কেন পদত্যাগ করলেন?
প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া, জ্যেষ্ঠতার মূল্যায়ন না করা এবং টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আসে।
দলীয় পক্ষ কী বলছে?
সদস্য সচিব জানান, টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় এবং সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে মান-অভিমান কাটাতে আলোচনা হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









