তীব্র তাপপ্রবাহে পানিশূন্যতা আর পানিবাহিত ঝুঁকি বেড়ে যায়—ঠিক সেই পরিস্থিতিতে ওরস্যালাইন কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ে সচেতনতার বার্তা জোরালো হয়েছে। এসএমসি ওরস্যালাইন ও প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও তীব্র তাপপ্রবাহে ওরস্যালাইন ব্যবহারে সচেতনতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে।
গরমে ইলেকট্রোলাইট-ঘাটতি, ঝুঁকি বাড়ে

আলোচনায় বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট ও পানি কমে যায়। ফলে দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ বাড়লে পানি ও স্যানিটেশন–সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও রোগের ঝুঁকি জোরালো হয়।
ওরস্যালাইন কেন জরুরি
ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন—ওরস্যালাইনকে জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে জীবনরক্ষাকারী একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন হিসেবে তুলে ধরা হয়। ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুহার কমাতে এর অবদান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তাপপ্রবাহে শরীরের তাপজনিত চাপ মোকাবিলা এবং পানিবাহিত রোগে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ওরস্যালাইনের ভূমিকার কথাও আসে আলোচনায়।
ভুল ব্যবহার নয়—গুঁড়ো মেশানো নিয়ম মানতে হবে
গোলটেবিলে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। ওরস্যালাইন কোনো সাধারণ পানীয় নয়; এটি একটি ওষুধ—তাই নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করা জরুরি। বলা হয়েছে, আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে ওরস্যালাইন সঠিকভাবে গুলতে হবে এবং তৈরি করার ১২ ঘণ্টার মধ্যে খেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও জোর দিয়ে বলা হয়।
পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, এবার জানানোও জরুরি
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, মানুষের হাতে ওরস্যালাইন পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এসএমসি ওরস্যালাইন। এখন দেশে এটি প্রায় সর্বত্র সহজলভ্য—তবু ব্যবহার করবে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে আগে থেকেই সঠিক তথ্য জানা থাকা দরকার। এ কারণে পণ্যের গায়ে সতর্কবার্তা দেওয়া রয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ব্যবহারসহ ভুল প্রয়োগ থেকে মানুষ দূরে থাকে।
প্রবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গরমে অসুস্থতা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যদের দ্রুত পানি-ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি সামলাতে ওরস্যালাইন সঠিকভাবে ব্যবহার করা বড় পার্থক্য গড়ে। ঠিক নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি কমে, সময়ও বাঁচে।
প্রশ্ন–উত্তর
ওরস্যালাইন কি সাধারণ পানি হিসেবে খাওয়া যাবে?
না। এটি একটি ওষুধ—নির্দেশনা মেনে গুলে ব্যবহার করতে হবে।
কত সময়ের মধ্যে ওরস্যালাইন তৈরি করার পরে খেতে হবে?
তৈরি করার ১২ ঘণ্টার মধ্যে খেতে হবে।
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে ওরস্যালাইন কেন বলা হয়?
গরমে পানিশূন্যতা এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি বাড়ে—সেখানে ওরস্যালাইনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









