GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / জোড়া লাগানো যমজ শিশুর চিকিৎসা, অর্থসংকটে অনিশ্চয়তা

জোড়া লাগানো যমজ শিশুর চিকিৎসা, অর্থসংকটে অনিশ্চয়তা

জোড়া লাগানো যমজ শিশুর পরিবারের পাশে চিকিৎসা সহযোগিতা চাওয়ার বাস্তবতা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জোড়া লাগানো যমজ কন্যাশিশু—একটি নড়লেই অন্যজন ব্যথায় কুঁকড়ে যায়। আলাদা করার চিকিৎসার পরামর্শ মিললেও অর্থসংকটের কারণে দুশ্চিন্তা এখন পরিবারজুড়ে।

একই শরীরে দুটি জীবন

জোড়া লাগানো যমজ শিশুর পরিবারের পাশে চিকিৎসা সহযোগিতা চাওয়ার বাস্তবতা

বিলগাথুয়া গ্রামে পাশাপাশি নয়—বুক থেকে পেট পর্যন্ত জোড়া লাগানো এই দুই শিশুর জীবনের গতি একে অন্যের সঙ্গে বাঁধা। একজন কাঁদলে অন্যজনও কান্নায় মেতে ওঠে। একজন নড়লেই অন্যজনের শরীরে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে—যেন দুজনের কষ্ট আলাদা করে বোঝা যায় না।

জটিল অস্ত্রোপচারের আশা, কিন্তু খরচের বেড়াজাল

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের আলাদা করা সম্ভব হতে পারে। তবে আলাদাভাবে চিকিৎসা শুরু করতে আগে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে পরিবারকে জানানো হয়েছে।

শিশু দুটির জন্মের পর থেকে দুধ, ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে বাবা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আগে রাজধানীতে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। এখন কুষ্টিয়ায় দোকানের কর্মচারী হিসেবে আয় করেন কম—সেখান থেকে নিয়মিত খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।

ঢাকায় চিকিৎসায় যাওয়ার কথা, বাস্তবতা ভিন্ন

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জন্মের পরপরই পরবর্তী পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য আবার ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু যাতায়াত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের জোগান দিতে পারছে না পরিবার। ফলে চিকিৎসা শুরু করার সময় গড়াচ্ছে, আর শিশুদুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের তাগিদ, সহায়তা চায় পরিবার

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেছেন, যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে থাকলে চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন আছে।

প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পরিবারও চায়—অর্থের বাধা যেন চিকিৎসার সুযোগ কেড়ে না নেয়।

প্রবাসী পরিবারের জন্য বার্তা

প্রবাসে থাকা অনেকের কাছে এমন ঘটনা মানে শুধু মানবিক আবেগ নয়; বরং ঘরছাড়া আয় দিয়ে দূরের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়া—যাতে জীবন বাঁচানোর সিদ্ধান্ত দেরি না হয়। এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতোই সুযোগ তৈরি করতে হবে দ্রুত।

কিছু প্রশ্ন

আলাদা করার চিকিৎসা কতটা জরুরি?
চিকিৎসকদের পরামর্শে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে থাকলেই সম্ভাবনা বাড়ে।

পরিবারের প্রধান বাধা কী?
জটিল চিকিৎসা ও ঢাকায় যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট খরচ বহনের সামর্থ্য নেই—ঋণের চাপও বাড়তি।

সহায়তার জন্য কারা উদ্যোগ নিতে পারে?
স্থানীয় স্বাস্থ্য ও প্রশাসনিক দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত সহযোগিতা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা এসেছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons