আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির মাঝেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) একটি নিয়োগ ও কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে সরব হলো জামায়াতে ইসলামী। দলের দাবি, ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রস্তাবও মানা যাবে না।
নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক

বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৈঠকে সিইসির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত পক্ষ থেকে দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীও বৈঠকে ছিলেন।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় নিয়োগ প্রশ্ন
জামায়াতের অভিযোগ, সামসুল আলমকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষায়, ইসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; এখানে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তির নিয়োগ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার পথে বাধা হতে পারে। পরওয়ার বলেন, সামসুল আলম বিএনপির নির্বাচনি আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—তাই নিয়োগ বাতিল হওয়া উচিত।
ক্ষমতাসীন দলের সুবিধা নিশ্চিত করার আশঙ্কা
জামায়াত বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকায় ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী কাজের সঙ্গে যুক্ত একজনকে ইসিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের আশঙ্কা, সরকারি দলের পক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ে সহায়ক তৎপরতার জন্যই তাকে বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব বাতিলের দাবি
বৈঠকে স্থানীয় সরকার আইনের সংশোধন প্রসঙ্গে ইসির একটি প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। জামায়াত জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার উদ্যোগের বিরোধিতা তারা করেছে। দলের যুক্তি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘ ইতিহাসে স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের লোকদের অংশ নেওয়া বন্ধ করে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি—তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বৈষম্য সংবিধানের নাগরিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ইসি বলেছে বিষয়টি আলোচনা হবে
জামায়াতের বক্তব্য, ইসি বলেছে এ বিষয়ে তারা আলোচনা করে দেখবে। তবে দলের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এসব সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা জরুরি।
প্রবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে যোগ্যতা-অযোগ্যতা ও প্রশাসনিক নিয়োগের সিদ্ধান্তগুলো সরাসরি প্রভাব ফেলে নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটার আস্থা এবং ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর
জামায়াত কাদের নিয়োগ বাতিল চেয়েছে? ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান কী? নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার ইসি প্রস্তাব বাতিল করতে বলেছে জামায়াত।
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে? স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কয়েকটি মূল দাবি নিয়ে ইসির সঙ্গে মতবিনিময় করেছে জামায়াত।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









