হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় দীর্ঘ আলোচনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা অবশেষে মামলা করেছেন। জেলার ছাত্রদল সভাপতিসহ মোট ১১ জনের নাম এসেছে মামলায়—এ ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসীসহ সবার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসূচির পরিবেশে।
কামাইছড়া তদন্ত কেন্দ্রে রাতেই মামলা

বুধবার রাত ৮টার দিকে এনসিপির নেতারা বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে মামলা করেন। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদা মিতু উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমে আটকে দেওয়া হয়েছিল কেন
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ তাদের কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। সে কারণে প্রথমে তাদের আটকে দেওয়া হয়।
বহর থামিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও সমঝোতা
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এনসিপি নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার পর শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এরপর দীর্ঘক্ষণ বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির পর তারা সেখান থেকে রওয়ানা হন।
এরপর বাহুবলের রশিদপুর এলাকায় আবারও তাদের বহর থামিয়ে দেয় পুলিশ। সেখানে পুলিশ ও এনসিপি নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে আলোচনা করেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল কামাইছড়া তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে মামলা করে।
পূর্বের হামলার সূত্র ধরে মামলা
মামলার পেছনে রয়েছে হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে পরিস্থিতি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা। সবুজবাগ এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে হামলার সময় গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাতেও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও এনসিপি পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করে। পরদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে এবং বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
স্থানীয় সংঘাত বাড়লে কর্মসূচি, চলাচল ও আইনশৃঙ্খলার পরিবেশে পরিবর্তন আসে। তাই এই মামলার মাধ্যমে ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটাই এখন এলাকার মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
কোথায় মামলাটি করা হয়েছে?
বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে।
মামলায় কাদের নাম এসেছে?
জেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে কী ঘটেছিল?
‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে সবুজবাগ এলাকায় নেতাদের বহরে হামলার ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









