বেসরকারি খাতের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের তথ্য এখন আর ত্রৈমাসিক ধরে নয়—প্রতি মাসে জমা দিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে পরবর্তী মাসের নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে। ফলে হালনাগাদ চিত্র দ্রুত পাওয়া যাবে, নীতিও হবে আরও নির্ভুল।
মাসিক রিপোর্টিংয়ে নতুন নিয়ম

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, চলতি জুলাই মাস থেকে বেসরকারি খাতের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের তথ্য মাসিক ভিত্তিতে সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগের নিয়মে ব্যাংকগুলো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তথ্য সংকলন করত।
ই-রিটার্নস পোর্টালে আপলোডের সময়
প্রতি মাসের তথ্য পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-রিটার্নস পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এজন্য নির্ধারিত পাঁচটি আরআইটি ফরম পূরণ করতে হবে। নীতিমালায় এই সময়সীমাই এখন মূল বাধ্যবাধকতা।
হার্ডকপি ও ঋণচুক্তির কাগজপত্রও জমা
শুধু অনলাইনে আপলোড নয়, ইডি-১ ও ইডি-২ ফরমের হার্ডকপি এবং সংশ্লিষ্ট ঋণচুক্তির দলিলও একই সময়ের মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগে জমা দিতে হবে। এতে তথ্যের সত্যতা ও পূর্ণতা যাচাই সহজ হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।
কেন বদলাচ্ছে—পর্যবেক্ষণ ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্য
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বৈদেশিক ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যালেন্স অব পেমেন্টস ও ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান আরও নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করাই উদ্দেশ্য।
আগের নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগে জারি করা নির্দেশনার অন্য বিধানগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় তথ্য সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে—এ রকম সমন্বয়ই মূল বার্তা।
প্রবাসীদের জন্য প্রভাব কী? প্রবাসী আয় ও বৈদেশিক লেনদেনের সঙ্গে অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র জড়িয়ে থাকে। বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ তথ্য দ্রুত পাওয়া গেলে ঋণের ঝুঁকি ও পরিশোধ সক্ষমতা বিশ্লেষণও এগিয়ে আসে। তাই ব্যাংকিং খাতের তথ্যপ্রবাহের এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর
১) কোন তথ্য মাসিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে? বেসরকারি খাতের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের তথ্য।
২) সময়সীমা কবে? পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ই-রিটার্নস পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
৩) হার্ডকপি কোথায় জমা দিতে হবে? ইডি-১ ও ইডি-২ ফরমের হার্ডকপি এবং ঋণচুক্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগে জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









