GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / খাঁটি রাজকীয়তায় গ্যারি সোবার্স স্মৃতি

খাঁটি রাজকীয়তায় গ্যারি সোবার্স স্মৃতি

গ্যারি সোবার্সের রাজকীয় উপস্থিতি নিয়ে বইয়ের অনুপ্রেরণামূলক ক্রিকেট দৃশ্য

টেলিভিশনের ছোট পর্দায় প্রথম যেদিন গ্যারি সোবার্সের আভাস লেগেছিল, তারপর আর তাকে শুধু ক্রিকেটার হিসেবে দেখা যায়নি—একটি রাজকীয় উপস্থিতি, ঠিক যেন মাঠে হাঁটার মুহূর্ত থেকেই দর্শককে টেনে নেন তিনি। ডানকান হ্যামিল্টনের নতুন বইয়ে উঠে এসেছে সেই মুগ্ধতার গল্প, যেখানে ব্যাটিং-বোলিং ছাপিয়ে আলাদা হয়ে যায় সোবার্সের ‘হেঁটে আসা’ সৌন্দর্য।

সীমিত টিভি, তবু চোখ আটকে ছিল সোবার্সে

গ্যারি সোবার্সের রাজকীয় উপস্থিতি নিয়ে বইয়ের অনুপ্রেরণামূলক ক্রিকেট দৃশ্য

হ্যামিল্টন লিখেছেন, তখন খেলাধুলা দেখার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। ছোট সাদাকালো পর্দায় ক্রিকেটের দৃশ্য পরিষ্কার আসত না। বল দেখতেই অনেক সময় কাছাকাছি গিয়ে বসতে হতো। তবু ওই ঝাপসা পর্দাতেও সবার মাঝখানে একজনের দিকেই টান লেগে থাকত—গ্যারি সোবার্স।

ক্রিকেট বোঝা কম ছিল, তবু ‘ভিন্ন’ ধরা পড়েছিল

সোবার্স সম্পর্কে তার নিজের ক্রিকেটজ্ঞান তখন খুব বেশি ছিল না। কিন্তু প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, সোবার্স অন্যদের মতো নন। হ্যামিল্টনের ভাষায়, সোবার্সের হাতে ছিল শিল্প, শরীরে ছিল এক ধরনের অনন্য সৌন্দর্য। চলাফেরাতেও ছিল স্বাভাবিক রাজকীয়তা। মাঠ বড় হোক কিংবা ছোট—সবখানেই তার উপস্থিতি উজ্জ্বল।

ব্যাটে আক্রমণ, কাটে নিখুঁত শিল্প

সোবার্সকে শুধু আলোড়ন তোলার মানুষ মনে করেননি হ্যামিল্টন। তিনি বরং দেখেছেন, সোবার্স নাটকীয়তা করে দর্শক টানতেন না। তবু দর্শকের চোখ থাকত তার দিকেই। ব্যাট হাতে সোবার্স ছিলেন ভয়ংকর আক্রমণাত্মক—জোরে এমনভাবে বল মারতেন যে মনে হতো বলের শক্তিও বদলে যাচ্ছে। আবার পরের মুহূর্তে দেখা যেত নিখুঁত লেট কাট—কোমল, পরিমিত, যেন শিল্পকর্ম।

বল ও ফিল্ডিং—সব কাজেই রাজকীয় দক্ষতা

হ্যামিল্টনের স্মৃতিতে সোবার্সের বৈচিত্র্য বারবার এসেছে। বল হাতে তিনি ছিলেন গতির মিশ্রণ, সুইংয়ের ছাপ, আর স্পিনের কৌশলে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করার মতো। ফিল্ডিংয়েও ছিল আলাদা মান। বিশেষ করে স্লিপে তার ক্ষিপ্রতা—দেখলে থমকে থাকার মতো। লেখকের বক্তব্যে, ক্রিকেট মাঠে এমন কোনো কাজ ছিল না, যা সোবার্স করতে পারতেন না।

বোলিং-ব্যাটিং নয়, ‘চেহারা’ আর ‘চলন’ই আলাদা টান

সোবার্সের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব। উইকেট নেওয়ার পর বা দারুণ শট খেলার পর ক্যামেরা যখন ক্লোজআপে ধরত, তখন তার মুখের হাসি, ছোট গোঁফ আর আত্মবিশ্বাসী চেহারাই যেন দর্শকদের মুগ্ধ করত। হ্যামিল্টন বলছেন, সোবার্সের দিকে মানুষ কেবল খেলাটা দেখতে যেত না—তাকে মাঠে হাঁটতে দেখার জন্যও যেত।

ক্রিজে নামলেই যেন সম্রাট

সবচেয়ে বেশি জায়গা জুড়ে আছে সোবার্সের ক্রিজে যাওয়ার দৃশ্য। ঢিলেঢালা ভঙ্গিতে হাঁটা, হাতে ব্যাট ঘোরানো, একবার আকাশের দিকে তাকানো—তারপর উঁচু করে রাখা শার্টের কলার আর হাতার বোতাম লাগানো পোশাক, মিলিয়ে পুরো ব্যাপারটাই যেন রাজকীয় আগমন। আর ট্রেন্ট ব্রিজের প্যাভিলিয়নের সিঁড়ি বেয়ে নামার দৃশ্যও হ্যামিল্টনের চোখে আসে সম্রাটের আগমনের মতো।

প্রবাসী বাঙালিদের কাছে এই গল্পটা শুধু ক্রিকেট-প্রেম বাড়ায় না। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও এমন স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়—পারফরম্যান্সের চেয়ে ব্যক্তিত্ব আর উপস্থিতির শক্তি কতটা বড়। সোবার্সের মতো করে মাঠে ‘থাকতে জানলে’ দর্শক নিজেই টেনে আসে—হ্যামিল্টনের বই যেন সেই সত্যটাই বারবার ফিরিয়ে আনে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons