চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সহযোগিতা সংস্থায় (ডব্লিউএআইসিও) পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ জানাল, জোটে বাংলাদেশের এই যুক্ততা হবে এআই সুশাসন ও সহযোগিতার বড় একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ। প্রবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—ভবিষ্যতের এআই নীতিমালা ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরিতে বাংলাদেশের অবস্থান জানান দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, ডব্লিউএআইসিওর পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৬ জুলাই ২৯ দেশ নিয়ে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
ডব্লিউএআইসিওর লক্ষ্য কী
ডব্লিউএআইসিওর বিষয়ে বলা হয়েছে, উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর করা হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভক্তি কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার কথাও আছে। জোটটি বৈশ্বিক এআই অগ্রগতিতে উন্মুক্ত, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশ সমর্থন এবং নতুন প্রযুক্তিটি মানুষের জন্য উপকারী ও নিরাপদ রাখতে কাজ করার কথা জানিয়েছে। এআইয়ের নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পর্ক জোরদারে কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতা
এর আগে চীনের নেতৃত্বে এআইবিষয়ক সম্মেলন ও বৈশ্বিক এআই সুশাসন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। বাংলাদেশও সেখানে প্রতিনিধিত্ব করে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, গত ২২ জুলাই ফিলিপাইনের ম্যানিলায় আসিয়ানের আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় ডব্লিউএআইসিওতে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে চীনা পক্ষ অনুরোধ জানায়। পরে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের যুক্ততার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রযুক্তি সহযোগিতার প্রসঙ্গও সামনে
বাংলাদেশ এমন দিনে ডব্লিউএআইসিওতে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা জানাল, যেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বিষয়ে কথা বলেন। এতে আইটি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও উঠে আসে। এই প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএআইসিওতে যুক্ত হওয়া এক ধরনের নীতিগত ও সহযোগিতামূলক আলোচনার নতুন জানালা খুলতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
এআই নীতিমালা আর নিরাপত্তা কাঠামো ঠিক হলে তা কাজের পরিবেশ, দক্ষতার চাহিদা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সুযোগ তৈরিতে প্রভাব ফেলে। পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের সহযোগিতা ও সক্ষমতা গড়ার পথে সহায়ক হতে পারে।
প্রশ্ন: ডব্লিউএআইসিও কী?
উত্তর: এটি চীনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এআইবিষয়ক আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক একটি সংস্থা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ কীভাবে যুক্ত হলো?
উত্তর: পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রশ্ন: এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কী?
উত্তর: উন্মুক্ত ও নিরাপদ এআই উন্নয়ন, ডিজিটাল বিভক্তি কমানো এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরিতে সহযোগিতা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









