তরুণ ও শিশুদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই—রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তাদের সুর ছিল ঠিক এই জায়গায়। প্রবাসী পরিবারের শিশুদের দৈনন্দিন বাস্তবতাতেও এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিনটাইম আর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সহজেই মন-মেজাজে প্রভাব ফেলে।
শিশু-কিশোর বিকাশে বিনোদনের ভূমিকা

সেমিনারে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম স্থবির থাকায় শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব পড়েছে। বক্তারা মনে করেন, সুস্থ বিনোদন শুধু আনন্দ নয়—শেখার আগ্রহ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক ভারসাম্য গঠনে সহায়ক।
ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবরের চ্যালেঞ্জ
এ সময় ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবর, অপসংস্কৃতি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কথা উঠে আসে। ফ্যাক্ট চেকিং জোরদার করা এবং তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো বিষয় প্রচার না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব
বক্তারা আরও বলেন, দেশীয় ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ জরুরি। নাটক, চলচ্চিত্র এবং সাংস্কৃতিক মাধ্যমে ইতিহাস-সংগ্রাম-ত্যাগের সত্যকে তুলে ধরার তাগিদও আসে। পালকি-বায়োস্কোপসহ দেশীয় লোকজ ধারাকে সামনে আনার আহ্বান জানান বক্তারা—যেখানে তরুণ সাংবাদিকদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকাও বিবেচনায় এসেছে।
তরুণ সাংবাদিকদের জন্য নীতিগত সুপারিশ
সেমিনারে তরুণ সাংবাদিকদের জন্য একগুচ্ছ নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—একাধিক উৎস থেকে শতভাগ তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ না করা, ক্লিকবেট ও বিভ্রান্তিকর শিরোনাম এড়িয়ে চলা, কপিরাইট এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ আইনের প্রতি সম্মান দেখানো। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প, সাহিত্য ও লোক-ঐতিহ্যকে সংবাদে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন সেলিব্রিটি রিপোর্টিং থেকে বিরত থাকার কথাও আলোচনায় এসেছে। ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রম জোরদারের কথাও বলা হয়।
প্রবাসী পরিবারের জন্য বার্তাটি কেন জরুরি
প্রবাসে বসে অনেকেই শিশুদের বিনোদন বেছে দেন অনলাইনের মাধ্যমে। সেই ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল কনটেন্ট, যাচাই করা তথ্য এবং ইতিবাচক সংস্কৃতিভিত্তিক বিনোদন মানসিক স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই সুস্থ বিনোদনকে লক্ষ্য করা—পরিবারের দৈনন্দিন সিদ্ধান্তের সঙ্গেও যুক্ত।
প্রশ্ন: সুস্থ বিনোদন বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক, ইতিবাচক ও মানবিক ধাঁচের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও কনটেন্টকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই এসেছে।
প্রশ্ন: ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার দায়িত্ব কী?
উত্তর: ফ্যাক্ট চেকিং, তথ্য যাচাই এবং ক্লিকবেট এড়িয়ে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ পরিবেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









