বাংলাদেশের ব্যাংকিং অঙ্গনে যখন সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি ধীর, তখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ বিতরণ দ্রুত এগোচ্ছে। ফলে গ্রামীণ কর্মচঞ্চলতা থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়—ঋণের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ছে।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ কতটা বাড়ল

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এক বছর আগে এ অঙ্ক ছিল তুলনামূলক কম—তখনকার তুলনায় এখন ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ।
একই সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধিও চোখে পড়ার মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা।
এজেন্ট-আউটলেট সংখ্যা বাড়লেও গতি কম
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকের সংখ্যা ৩১টি। এর মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সব ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব ব্যাংকের অধীনে এজেন্ট রয়েছে ১৫ হাজার ৪২৪টি। একই এজেন্ট একাধিক আউটলেট পরিচালনা করতে পারে, ফলে মোট আউটলেটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৯৭টি।
তবে গত এক বছরে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যা খুব একটা বাড়েনি। এ সময়ে এজেন্ট বেড়েছে মাত্র ৫১টি এবং আউটলেট বেড়েছে ৪০টি।
কেন বাড়েনি এজেন্টের সংখ্যা
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন এলাকায় কিছু এজেন্ট কার্যক্রম ছেড়ে চলে গেছেন। পাশাপাশি অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে কয়েকজন এজেন্টকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিস্তার এরই মধ্যে হওয়ায় নতুন এজেন্ট যুক্ত হওয়ার গতিও কমেছে।
প্রবৃদ্ধি হচ্ছে লেনদেনের সূচকে
এজেন্ট সংখ্যা না বাড়লেও লেনদেনের বিভিন্ন সূচকে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খোলা গ্রাহক হিসাব গত এক বছরে ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকার হিসাব ২ কোটি ৩০ লাখ ২৮ হাজার, যা মোট হিসাবের ৮৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
নারী গ্রাহকদের অংশও উল্লেখযোগ্য। মোট হিসাবের মধ্যে নারীদের নামে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৯ হাজার অ্যাকাউন্ট। তবে হিসাবের বড় অংশ কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে—শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের কাছে রয়েছে ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ হিসাব। সবচেয়ে বেশি হিসাব ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের, এরপর ব্যাংক এশিয়া, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক।
সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধির বিপরীতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ
দেশের বেসরকারি খাতে গত জুন পর্যন্ত ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ—যা এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধির একটি চিত্র। এর বিপরীতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
এ খাতে ঋণ বিতরণে সবচেয়ে বড় অবদান ব্র্যাক ব্যাংকের। গত এক বছরে ব্যাংকটির এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। জুন শেষে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট ঋণের ৭৩ দশমিক ৭৯ শতাংশই দিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এরপর রয়েছে সিটি ব্যাংক, যার অংশ ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। ব্যাংক এশিয়ার অংশ ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও ব্যবসায় যে প্রভাব পড়ে তা এখানে সরাসরি বোঝা যায়—গ্রামীণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে দ্রুত ঋণ পৌঁছালে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বাড়ে, আর সেখান থেকেই দৈনন্দিন আয়ের নিরাপত্তা তৈরি হয়।
প্রশ্নোত্তর
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ কেন বাড়ছে?
গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষি, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় ঋণ পৌঁছানোর চাহিদা ও সুবিধা—এই প্রবণতাই গতি দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এজেন্টের সংখ্যা না বাড়লেও কীভাবে ঋণ বাড়ল?
উপযুক্ত ব্যাংক-নেটওয়ার্ক, লেনদেনের সূচকে উন্নতি এবং বিদ্যমান এজেন্ট কাঠামোর কার্যকারিতার ফলেই ঋণ বিতরণে গতি এসেছে।
কোন ব্যাংক ঋণ বিতরণে এগিয়ে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে ঋণ বিতরণে ব্র্যাক ব্যাংকের অবদান সবচেয়ে বেশি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









