জনপ্রশাসনে এআই সহকারী দ্রুত চালু করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা। তার মতে, সরকারি তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিলে কর্মকর্তাদের সময় কমবে, সিদ্ধান্ত হবে দ্রুত, আর সেবাও হবে আরও জনবান্ধব।
প্রথম বড় ক্ষেত্র হিসেবে জনপ্রশাসন

বুধবার নয়, বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি সেমিনারে উপদেষ্টা বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন কেবল প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি জাতীয় সক্ষমতা, সুশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। তাই ধীরে ধীরে এআই গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও জনকেন্দ্রিক করতে হবে—জনগণের সম্মতি, সচেতনতা ও নিরাপত্তা মাথায় রেখে।
সরকারি তথ্যভাণ্ডারে ভর দিয়ে এআই সহকারী
তার প্রস্তাবের মূল জায়গা হলো সরকারি তথ্যভাণ্ডার। অনুমোদিত তথ্যের ভিত্তিতে এআই সহকারী সংশ্লিষ্ট বিধি, পরিপত্র, আগের সিদ্ধান্ত এবং উৎস উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারে। এতে কোনো তথ্য খুঁজতে কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফাইল ঘাঁটতে হবে না—এই বাস্তব সুফলটাই গুরুত্ব পাচ্ছে।
কোথায় কোথায় এআই কাজে লাগতে পারে
তিনি বলেন, সরকারি ব্যয়, ক্রয়, নিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, করব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা ও ফাইল ব্যবস্থাপনার মতো নানা ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করা সম্ভব। পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগ প্রকল্প প্রণয়ন, ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণে এআই কাজে লাগাতে পারলে সময় ও সরকারি অর্থের অপচয় কমানো যায় বলেও উল্লেখ করেন।
নাগরিক সেবাতেও এআইয়ের সুযোগ আছে বলে জানান। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো সেবাগুলো দ্রুত ও সহজ করার দিকেই নজর দিতে হবে।
গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা ও আইনগত কাঠামো জরুরি
এআই ব্যবহারে তথ্যের গোপনীয়তা এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর জোর দেন উপদেষ্টা। কোন তথ্য কতটুকু এবং কোন স্তরে ব্যবহার বা শেয়ার করা যাবে—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলেও মত দেন। একই সঙ্গে তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এবং আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করার কথা বলেন।
এআইয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে উল্লেখ করে তিনি দায়িত্বশীল ও জনকল্যাণমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, লক্ষ্য হবে এআই সহায়ক সরকার—মানুষবিহীন সরকার নয়। প্রযুক্তির সঙ্গে চাকরি ও কর্মের ভারসাম্য রেখে জনকল্যাণে সমাধান খুঁজে বের করার তাগিদ দেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসে থাকা পরিবারগুলোর জন্য নাগরিক সেবা দ্রুত হলে প্রক্রিয়া সহজ হয়—পাসপোর্ট বা লাইসেন্স সংশ্লিষ্ট ঝামেলা কমে, তথ্য খোঁজার সময়ও বাঁচে। আর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঠিক থাকলে ভোগান্তির ঝুঁকিও কমে। তাই জনপ্রশাসনে এআই সহকারী চালুর উদ্যোগটি বাস্তবে মানসম্মত সেবা তৈরির বড় একটি সুযোগ হতে পারে।
দ্রুত জবাব
জনপ্রশাসনে এআই সহকারী কেন বলা হচ্ছে?
সরকারি তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে দ্রুত তথ্য দিয়ে কর্মকর্তার কাজ সহজ করা এবং সেবা ত্বরান্বিত করার জন্য।
ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের কথা কী বলা হয়েছে?
তথ্য গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করার কথা।
এআই কি কর্মসংস্থান কমাবে?
তিনি বলেছেন লক্ষ্য হবে এআই সহায়ক সরকার, মানুষবিহীন সরকার নয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com







