GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান / এআইয়ের দৌড়ে স্বাস্থ্যখাতে এগিয়ে বাংলাদেশ

এআইয়ের দৌড়ে স্বাস্থ্যখাতে এগিয়ে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সংক্রান্ত প্রতীকী চিত্র

এআইয়ের কারণে চাকরি পুরোপুরি চলে যাবে—বিশ্বজুড়ে এমন উদ্বেগই বেশি। তবে বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন বলছে, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা আলাদা; ফলে প্রভাব হবে মূলত কাজের ধরনে, একেবারে চাকরিচ্যুতিতে নয়।

জেনারেটিভ এআইয়ে চাকরির কাঠামো বদল

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সংক্রান্ত প্রতীকী চিত্র

বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর বিদ্যমান চাকরির একটি অংশ জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। একই সঙ্গে, সব চাকরি সমানভাবে ঝুঁকিতে নয়—কোথায় এআই মানুষকে সহায়তা করবে, আবার কোথায় কাজের ধরনে পরিবর্তন আসবে—সেটাই মূল প্রশ্ন।

কিছু খাতে সুযোগ, কিছু খাতে চাপ

প্রতিবেদনের আলোচনায় দেখা যায়, যেসব কাজে চিন্তাশক্তিনির্ভর কাজ বেশি—বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ, অর্থ ও ব্যবসায়িক সেবা—সেসব ক্ষেত্রেই স্বয়ংক্রিয় হওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। আবার প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষের উৎপাদনশীলতা বাড়লে নতুন কাজও তৈরি হতে পারে। তাই প্রভাব হবে একমুখী নয়; খাতভেদে চিত্র বদলাবে।

বাংলাদেশের জন্য কেন ‘তাৎক্ষণিক চাকরি-ভাঙা’ কম

বাংলাদেশের মতো দেশে সেই চিন্তাশক্তিনির্ভর খাতে কর্মরত মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম—এই বাস্তবতাকে সুবিধাজনক ধরে বিশ্বব্যাংক বলছে, তাৎক্ষণিকভাবে বিপুল হারে চাকরিচ্যুতি ঘটার সম্ভাবনা কম। বরং কাজের বিন্যাস বদলাতে পারে—কেউ নতুনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার শিখে এগোবে, কারও দায়িত্বের পরিধি বদলাবে।

দক্ষতা-ঝুঁকি কোথায় বেশি?

দক্ষিণ এশিয়ায় তরুণ ও মাঝারি দক্ষতার কর্মীরা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। আরও বলা হয়, চ্যাটজিপিটির মতো এআই চালুর পর কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় চাহিদা কমতে পারে। তবে উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে এই প্রভাব তুলনামূলক কম—ফলে নীতিনির্ধারণ ও প্রস্তুতিই নির্ধারণ করবে পরিবর্তনটা কতটা মসৃণ হবে।

স্বাস্থ্যখাতে এগিয়ে যাওয়ার মানে প্রবাসীভাবেও গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপট ধরে বলা যায়, স্বাস্থ্যখাতের মতো ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে তা সেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের দক্ষতার চাহিদা—সবকিছুরই নতুন দিক খুলতে পারে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দক্ষতা আপডেট না থাকলে সুযোগ মিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে; আবার সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ নিলে কাজের বাজারে টিকে থাকা সহজ হয়।

কী করবেন? এআইয়ের যুগে নিজের পেশার সঙ্গে মানানসই দক্ষতা—ডিজিটাল কাজ, ডেটা বোঝা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার—এসবের দিকে নজর দেওয়াই হবে সবচেয়ে বাস্তব পদক্ষেপ।

প্রশ্নোত্তর

এআই কি সত্যিই চাকরি কমাবে?
কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় হতে পারে, তবে সব চাকরি নয়। অনেক ক্ষেত্রে কাজের ধরন বদলাবে।

উন্নয়নশীল দেশে প্রভাব কি কম?
প্রতিবেদনের মূল্যায়ন অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে তা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেন জরুরি?
প্রযুক্তি দ্রুত বদলালে সুযোগও তত দ্রুত তৈরি হয়—তাই দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা প্রস্তুত না হলে চাপ বেশি অনুভূত হতে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons