ফ্রিল্যান্সারদের বিদেশি মুদ্রার আয় দেশে আনার প্রক্রিয়াকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল সেবা খাতের গতি মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ, যাতে অনলাইনে পাওয়া আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে বাড়তি জট কমে।
ফ্রিল্যান্সার বৈদেশিক লেনদেন: ইলেকট্রনিক প্রমাণই যথেষ্ট

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই–মেইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয়ের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে আগের মতো প্রচলিত রপ্তানি নথির ওপর নির্ভরতা কমবে। ডিজিটাল বাণিজ্যের সঙ্গে প্রক্রিয়াটি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
ছোট লেনদেনে ছাড়: ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত
ক্ষুদ্র অঙ্কের লেনদেন সহজ করতে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সেবা রপ্তানির আয় দেশে আনতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াও অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে কম অঙ্কের আয় নিয়মিতভাবে আনতে সুবিধা মিলবে।
ওপিজিএসপি পথে গ্রহণ: লেনদেনভিত্তিক সীমা
এ ছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের (ওপিজিএসপি) মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ধরনের অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার শর্ত রয়েছে।
ডুয়েল কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড ও সেবা ব্যবস্থার বিস্তার
পরিপত্রে ডুয়েল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ ইস্যুর সুযোগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল পেমেন্টের পথ আরও সহজ হবে—বিশেষ করে প্রবাসী বা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণে অভ্যস্তদের জন্য।
ইআরকিউ সুবিধা: ডলারে আয় ধরে রাখার সুযোগ
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাঁদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই সুবিধা এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি মুদ্রায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ ডলারে রেখে আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, ক্লাউড সেবা, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য বৈদেশিক ব্যয় মেটাতে পারবেন।
অন্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব শর্ত ও সুবিধা বাস্তবায়ন ঠিকমতো হলে আরও বেশি ফ্রিল্যান্সার ও সেবা রপ্তানিকারক আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে তাদের আয় আনতে আগ্রহী হবেন। এতে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে সেবা রপ্তানি থেকে কী পরিমাণ আয় হচ্ছে—তা হিসাব-নিকাশও সহজ হবে।
ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রধান সুবিধা কী কী?
- ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয় গ্রহণ
- ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ছোট লেনদেনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়ের সুযোগ
- ওপিজিএসপির মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার গ্রহণ (সময়সীমা মানতে হবে)
- ডুয়েল কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ সুবিধা
- তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ ৫০% ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ৩০% পর্যন্ত ইআরকিউ সুবিধা
এই নির্দেশনা মূলত কাদের জন্য?
ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের পাশাপাশি সেবা রপ্তানিকারকদের জন্যও প্রক্রিয়াটি সহজ করা হয়েছে।
ডলার হিসেবে আয় রেখে ব্যয় করতে পারবেন কি?
ইআরকিউ সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে, যা দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো যাবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









