GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / বাংলাদেশে বিনিয়োগে সরকার পাশে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

বাংলাদেশে বিনিয়োগে সরকার পাশে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ নিয়ে সম্মেলনের চিত্র

চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন—বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ হলে সরকারও পাশে থাকবে। এই আশ্বাস শুধু কথার কথা নয়, বাস্তবে সহায়তার অঙ্গীকার বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ সরকার পাশে: সময় ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ নিয়ে সম্মেলনের চিত্র

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী—যে কেউ বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে পাশে থাকবে। তিনি জোর দিয়ে জানান, এটি সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার, কেবল আশ্বাস নয়।

আস্থা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তির ইতিবাচক প্রভাব

অনুষ্ঠানে তিনি দেশি-বিদেশি অতিথি, ব্যবসায়ী নেতা, এফআইসিসিআইর সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তাদের উপস্থিতিকে বাংলাদেশের প্রতি করপোরেট আস্থা এবং বিনিয়োগের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে। এসবই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাজনীতির আগে ব্যবসায়ী অভিজ্ঞতা থেকে বার্তা

নিজের কর্মজীবনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সে অভিজ্ঞতা থেকে তার উপলব্ধি—কোনো ব্যবসার সাফল্য কেবল উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। প্রবৃদ্ধি-সহায়ক সরকারি নীতিমালাও সেখানে বড় ভূমিকা রাখে।

বিনিয়োগবান্ধব নীতি: আইনি সুরক্ষা, কর সুবিধা, প্রক্রিয়া সহজ করা

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির সামনে চ্যালেঞ্জ আছে ঠিকই, তবে রয়েছে দ্রুত বিকাশমান বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনসমর্থনপুষ্ট পরিবেশ। তিনি এসব শক্তিকে টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনি ইশতেহারে অর্থনৈতিক রূপান্তরের রূপরেখা থাকলেও সেটি বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান।

তিনি জানান, সরকারের পাঁচ মাস পূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নেওয়া হয়েছে। ওই মতামতের ভিত্তিতে বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়া, করব্যবস্থা সহজ করা, অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা কী?

এই অনুষ্ঠানে সরকারের অবস্থান ছিল—বাংলাদেশে বিনিয়োগ এলে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে কাজ চলবে। ফলে প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্যও এটি একটি সরাসরি বার্তা।

প্রশ্নোত্তর

১) প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন?
বাংলাদেশে মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকার সময়, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও সময়োপযোগী নীতিমালায় পাশে থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

২) সম্মেলনটি কোন বিষয়ে?
‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’—বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা।

৩) সরকার কোন ধরনের উদ্যোগের কথা বলেছে?
আইনি সুরক্ষা জোরদার, নিয়ন্ত্রক কাঠামো আধুনিক করা, করব্যবস্থা সহজ করা, মুনাফা ফেরত প্রক্রিয়া সহজ করা, পুঁজিবাজার ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons