তিন দিন আগে নির্বাচনী প্রস্তুতি চূড়ান্ত করার মাঝেই থমকে গেল বিপিএএমইএ’র ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ নির্বাচন স্থগিত করেছে, ফলে সংগঠনের নেতৃত্বের দৌড়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিবের সই করা এক চিঠিতে সিদ্ধান্তের ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২-এর ২০ ধারায় এফবিসিসিআইয়ের আব্রিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে আবেদনকারীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরামর্শের এই প্রেক্ষাপটেই এফবিসিসিআইয়ের আব্রিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ প্যাকেজিং এন্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
শর্ত না মানলে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না
তবে সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হতে হলে একটি শর্তও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের আব্রিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের না করলে স্থগিতের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। ফলে প্রক্রিয়াটি এখন মূলত আরবিট্রেশন পথে কত দ্রুত যায়—তার ওপর নির্ভর করছে।
নির্বাচনের আংশিক ফল: সহ-সভাপতি ও পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
ইতিমধ্যে নির্বাচনের অংশ হিসেবে ২৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে কিছু পদে স্থির চিত্র তৈরি হয়েছে। ৬ সহ-সভাপতি ও ১৫ পরিচালক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা।
আগামী শনিবার সভাপতি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ পরিচালক পদে ভোট নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থগিতের কারণে সেই ভোটের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
‘ঐক্য পরিষদ’-এর ক্ষোভ ও অভিযোগের টানাপোড়েন
নির্বাচন স্থগিতের প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া ‘ঐক্য পরিষদ’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, ব্যবসার সংকটময় সময়ে যখন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তখন একটি পক্ষ অতীতে যেভাবে নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছে এবারও একইভাবে চেষ্টা করছে।
সংগঠনের দলনেতা ও সভাপতি পদে প্রার্থী মো. শাহরিয়ার জানিয়েছেন, তাদের অভিযোগ—বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে যাদের বিরুদ্ধে আপত্তি/অভিযোগ, তাদের কাউকেই ডাকা হয়নি। অন্যদিকে নির্বাচন স্থগিত রেখে অভিযোগকারীকে ট্রাইব্যুনালে যেতে পরামর্শ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সেখানে পক্ষভুক্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এদিকে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই সভাপতি প্রার্থী ও একজন পরিচালক পৃথক আবেদনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি—বাণিজ্য সংগঠনের বিধিমালা অনুযায়ী পরপর দুই মেয়াদ দায়িত্বে থাকা কেউ এক মেয়াদ নির্বাচন করতে পারেন না। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আপিল বোর্ডে আগের আবেদন খারিজ হয়ে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।
প্রবাসী সদস্যদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বিপিএমইএ’র মতো সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে স্থগিত মানে শিল্প-কারখানার প্রতিনিধিত্ব, নীতিগত সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশও কিছুদিন পিছিয়ে যেতে পারে। প্রবাসে থাকা উদ্যোক্তা ও রপ্তানিসংশ্লিষ্টদের জন্য এটি বিশেষভাবে স্পর্শকাতর, কারণ সংগঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ঘিরে ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সংক্ষেপে কয়েকটি প্রশ্ন
নির্বাচন স্থগিত কতদিন? এফবিসিসিআইয়ের আব্রিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বলা হয়েছে।
স্থগিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে কী শর্ত আছে? নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের না হলে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
এখন কোন অংশে ভোট হওয়ার কথা ছিল? সভাপতি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ পরিচালক পদে আগামী শনিবার ভোটের পরিকল্পনা ছিল, যা স্থগিতের কারণে অনিশ্চিত।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









