স্টার্টআপের জন্য টেকসই অর্থের পথ আরও পরিষ্কার হলো। বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি) তাদের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ওয়াইজ রহিমকে নিয়োগ দিয়েছে—দেশের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন বাড়াতে।
বিএসআইসির নেতৃত্বে ওয়াইজ রহিম

৩৯টি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বিএসআইসির পরিচালনা পর্ষদে দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা রয়েছেন। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন এমডি-সিইও ওয়াইজ রহিমের কর্মপথও ছিল স্টার্টআপ ও বিনিয়োগভিত্তিক।
বিএসআইসিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি লন্ডনভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান স্টারজন ক্যাপিটালে বাংলাদেশে ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বিনিয়োগ কার্যক্রম মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বিস্তৃত।
ইনোভেশন থেকে বিনিয়োগ—ওয়াইজ রহিমের অভিজ্ঞতা
ওয়াইজ রহিম এর আগে ২০১৭ সালে ডেলিগ্রাম নামে একটি ওমনি চ্যানেল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন। পাড়ার মুদিদোকানগুলোকে ই-কমার্সের ডেলিভারি ও ফুলফিলমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। সিঙ্গাপুর ও নিউইয়র্কের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থায়ন সংগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষাগতভাবে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় স্টার্টআপে জোর
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় গঠিত বিএসআইসির মূল লক্ষ্য দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন বাড়ানো এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের পরিবেশ শক্তিশালী করা। নতুন নেতৃত্বে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও গতি পাবে—এটাই উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা।
‘অঙ্কুর’ তহবিল ও আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা
এরই মধ্যে বিএসআইসি ‘অঙ্কুর’ নামে ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি তহবিল চালু করেছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে এই তহবিল থেকে দেশের স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে তহবিলের আকার ১ হাজার কোটি টাকার বেশি করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় দেশের কার্যরত ব্যাংকগুলোকে প্রতিবছরের বার্ষিক মুনাফার ১ শতাংশ স্টার্টআপ ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগ করতে হবে। ফলে স্টার্টআপ অর্থায়নের পরিসর আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও তরুণদের নতুন চাকরি ও পণ্যের সুযোগও এভাবে সম্প্রসারিত হওয়ার বাস্তব ক্ষেত্র তৈরি হবে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
স্টার্টআপে অর্থায়ন বাড়লে শুধু আইডিয়া টিকে থাকে না; নতুন কর্মসংস্থান, দক্ষতার ব্যবহার ও রপ্তানিমুখী উদ্যোগেরও সম্ভাবনা বাড়ে। বাংলাদেশে উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম শক্ত হলে প্রবাসী বিনিয়োগকারী ও সহায়তাকারীদের আগ্রহও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
বিএসআইসির নতুন এমডি-সিইও কে?
ওয়াইজ রহিমকে বিএসআইসির প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিএসআইসি কী কাজে গঠিত?
সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়ন বাড়িয়ে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন পরিবেশ শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।
‘অঙ্কুর’ তহবিল কীভাবে কাজ করবে?
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে এই তহবিল থেকে দেশের স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ করা হবে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com








