চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল—চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল, যেখানে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রত্যাশা

বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে জোনটি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন।
রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন ও অবকাঠামোর লক্ষ্য
আয়োজকদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, জোনটি রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, আধুনিক শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়—এ কথাও বেজা অনুষ্ঠানে স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাব-লিজ চুক্তি ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস
নির্মাণকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছিলেন বিশেষ অতিথি। বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান।
অনুষ্ঠানে কয়েকটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ জন চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।
ব্যবসা শুরু সহজ করতে দ্রুত ব্যবস্থা
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সাধারণভাবে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। তবে জোনে আগামী তিন মাসের মধ্যে এমন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে বিনিয়োগই হবে প্রধান চালিকাশক্তি। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারের বার্তা স্পষ্ট—বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, জোনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়া দুই দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রশ্নোত্তর
এই জোনে বিনিয়োগ কত হতে পারে?
বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
কত মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে?
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হয়েছে।
ব্যবসা শুরু করতে কত সময় লাগতে পারে?
জোনে ব্যবস্থা চালু হলে মাত্র ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হবে—এ কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









