GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / ড্রোন আতঙ্কে ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ক্রুড আনছে বিপিসি

ড্রোন আতঙ্কে ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি ক্রুড আনছে বিপিসি

ড্রোন আতঙ্কের মধ্যে বিকল্প পথে তেলবাহী জাহাহাজের সমুদ্রযাত্রা

ড্রোন হামলার আশঙ্কায় রুট বদল হয়ে পড়েছে জ্বালানি সরবরাহের শিরদাঁড়ায়। ড্রোন আতঙ্কে ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেশি পথ ঘুরে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)-র বহরে বিপিসির অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) আনতে হচ্ছে এমটি নিনেমিয়াকে। এর প্রভাবে সময়ও বাড়ছে, সেই সঙ্গে অতিরিক্ত খরচের চাপও বাড়ছে।

লোহিত সাগরের ঝুঁকি, তাই পথ পরিবর্তন

ড্রোন আতঙ্কের মধ্যে বিকল্প পথে তেলবাহী জাহাহাজের সমুদ্রযাত্রা

সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সাধারণত লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালি হয়ে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত পথ থাকলেও, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি থাকায় বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। ফলে জাহাজটি সুয়েজ খাল-জিব্রাল্টার এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে এগোচ্ছে।

রুট বদলে দূরত্ব বেড়েছে বিপুলভাবে

ইয়ানবু থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব সাধারণ সময়ে ৪২শ নটিক্যাল মাইলের মতো হলেও, এবার রুট পরিবর্তনের কারণে এমটি নিনেমিয়াকে ১৩ হাজার ১২৯ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আরও ৩৪ দিনের মতো সময় বেশি লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত ভাড়া—দূরপাল্লার খরচের বাস্তব চাপ

রুট বদল মানে শুধু পথ দীর্ঘ হওয়া নয়, আর্থিক চাপও। পার্সেল বহনের ক্ষেত্রে মূল ভাড়ার পাশাপাশি ৫৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৩ ডলার অতিরিক্ত খরচের কথা জানিয়ে বিএসসিকে চিঠি দিয়েছে। এর পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় ৬৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। ডলার-রূপান্তর ধরা হয়েছে প্রতি ডলার ১২৩ দশমিক ৪৬ টাকা।

বিপিসির ক্রুড আমদানির রুট চিত্র

বিএসসির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির (ইআরএল) প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিএসসি। এর আগে ইয়ানবু থেকে সাধারণ রুটে লোহিত সাগর-এডেন উপসাগরের সংযোগস্থল (বাব আল মান্দেব) হয়ে ভারত মহাসাগর দিয়ে বাংলাদেশে আসার কথা থাকত। কিন্তু হামলার ঝুঁকির কারণে সেটি আর সম্ভব হচ্ছে না, তাই সুয়েজ খাল-জিব্রাল্টার হয়ে কেপ অব গুড হোপের পথ বেছে নিতে হয়।

প্রবাসীদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

এই ধরনের দেরি ও অতিরিক্ত খরচ পরোক্ষভাবে জ্বালানি আমদানি-ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক খরচে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে দৈনন্দিন জীবন, পরিবহন থেকে শুরু করে উৎপাদন—সব জায়গাতেই জ্বালানির যোগান স্থিতিশীল থাকাই মূল বিষয়। তাই ড্রোন আতঙ্কের এই রুট বদলটা শুধু সমুদ্রযাত্রার খবর নয়; দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেই জড়িয়ে।

শেষ কথা

সূত্র জানায়, কেপ অব গুড হোপ হয়ে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাহাজটি চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে। রুট বদলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে সময় টেনে আনছে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাবও তৈরি হচ্ছে।

প্রশ্ন-উত্তর

কেন রুট বদল করা হয়েছে?
লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি এবং ড্রোন হামলার আতঙ্ক থাকায় বিকল্প সমুদ্রপথ নেওয়া হচ্ছে।

এতে কত বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে হচ্ছে?
সাধারণ রুটের তুলনায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইলের বেশি দূরত্ব ঘুরে জাহাজটি আসছে—মোট ১৩ হাজার ১২৯ নটিক্যাল মাইল।

সময় ও খরচের প্রভাব কী?
নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আরও ৩৪ দিনের মতো সময় বেশি লাগতে পারে এবং মূল ভাড়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত খরচও ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons