GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / ইউরিয়ায় কম দামে রাশিয়ার প্রস্তাব; জি২জি আলোচনা

ইউরিয়ায় কম দামে রাশিয়ার প্রস্তাব; জি২জি আলোচনা

বাংলাদেশে ইউরিয়া সার সরবরাহ ও কৃষি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের কৃষিতে সারের খরচ কমানো এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এবার রাশিয়ার প্রস্তাব এল। কম দামে ইউরিয়া সার দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। এতে আমদানি ব্যয়ও কমার সম্ভাবনা থাকছে বলে আলোচনা হয়েছে।

সচিবালয়ে রাশিয়ার প্রস্তাব ও জি২জি আলোচনা

বাংলাদেশে ইউরিয়া সার সরবরাহ ও কৃষি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ধারাবাহিকতা নিয়ে কথা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা, সার সরবরাহ এবং সরকার-টু-সরকার (জি২জি) বাণিজ্য সম্প্রসারণ।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির: রাশিয়ার সহযোগিতা প্রশংসিত

মন্ত্রী বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, রাশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রাশিয়ার আগ্রহ: বিসিআইসি-র কাছে কম দামে ইউরিয়া

বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কাছে জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহের কথা জানায়।

তারা আরও বলে, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ মার্কিন ডলার কম দামে সার সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে একদিকে নির্ভরযোগ্য সার সরবরাহ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে আমদানি ব্যয়ও কমবে—এমন প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে।

খাদ্যপণ্য ও বাজার স্থিতিশীলতায়ও সহযোগিতার কথা

এ ছাড়া টিসিবি ও রাশিয়ার জেএসসি এফইসি প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনা হয়।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডাল, সবুজ মসুর ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহের কথা জানানো হয়। তারা খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।

উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেও একমত হয়।

প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন জরুরি?

সারের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে, ফলে বাজারে খাদ্যের সরবরাহেও স্থিতি আসে। বাংলাদেশে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হলে প্রবাসী পরিবারগুলোরও জীবনযাত্রার খরচের চাপ কিছুটা কমে—এমন প্রভাবই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: রাশিয়া কোন ভিত্তিতে ইউরিয়া সার দিতে চায়?
উত্তর: সরকার-টু-সরকার (জি২জি) ভিত্তিতে।

প্রশ্ন: প্রস্তাবিত দামের পার্থক্য কত?
উত্তর: বর্তমান আমদানির তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ মার্কিন ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।

প্রশ্ন: আলোচনা শুধু সার নিয়েই ছিল কি?
উত্তর: না, খাদ্য নিরাপত্তা, গম-এমওপি সরবরাহের ধারাবাহিকতা, এবং ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিয়েও কথা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons