পোল্যান্ডভিত্তিক বায়িং হাউস এলপিপি বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও দিয়েছে। পোশাক খাতের ক্রেতা হিসেবে তাদের অবস্থান স্থিতিশীল রাখার বার্তাটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার-অর্থনীতিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
আবারও প্রতিশ্রুতি এলপিপির

গতকাল বুধবার বাংলাদেশি এক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এলপিপি জানায়, তারা বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা চালিয়ে যাবে। এর আগে রাশিয়ার ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এফইএস রিটেইলের কাছে পাওনাসংক্রান্ত জটিলতায় এলপিপি গত মাসে বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল।
এফইএস-সম্পর্কিত ক্ষতির ব্যাখ্যা
এলপিপি বলেছে, এফইএসের সঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণেই তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। তাদের হিসাবে এফইএসের কাছে এলপিপির পাওনা ৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা। এই আর্থিক চাপের মধ্যেই এলপিপি জানাচ্ছে, তারা পরিস্থিতি স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে।
সোর্সিং ও চুক্তি পালন অব্যাহত
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, দায় এড়ানোর কোনো অবস্থান নয়—নিজস্ব চুক্তি অনুযায়ী সব দায় যথাযথভাবে পালন করার লক্ষ্য তারা ধরেই এগোবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহের ভিত্তি বলছে এলপিপি
এলপিপির দাবি, বাংলাদেশ তাদের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আর্থিক জটিলতায় ক্ষতির শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থই তাদের অগ্রাধিকার।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের পোশাক খাতে ক্রেতাদের আস্থা স্থির থাকলে অর্ডার প্রবাহ ও কর্মসংস্থান টিকতে সাহায্য করে। প্রবাসী পরিবারের ভরসার জায়গা অনেক সময়ই দেশে তৈরি আয়ের সুযোগ—সেই জায়গায় এলপিপির এই বার্তাটি মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তিও এনে দিতে পারে।
এদিকে জানা যায়, এফইএস রিটেইলের বকেয়া আদায়ে উচ্চ আদালতে মামলা হয়েছে এবং এলপিপির ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বাসায় অভিযানসহ নানা ঘটনাও ঘটেছে। তবে এলপিপি বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এই ইস্যু প্রভাব ফেলবে না।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









