গ্যাস–সংকটের ধাক্কায় যে শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন থামিয়ে রেখেছিল, সেগুলো ধীরে ধীরে আবার চালু হচ্ছে। কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর গ্যাসনির্ভর অনেক কারখানা উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে—তবে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। এতে পুরো সক্ষমতায় চলা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকায় কিছুটা স্বস্তি, তবু লোডশেডিং থাকছে

গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়তে শুরু করায় কারখানাগুলো উৎপাদন শুরু করেছে। তবে ঢাকার বাইরে বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ফলে অনেক শিল্পকারখানার দৈনন্দিন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী ও হবিগঞ্জের বেশ কিছু শিল্প এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
গ্যাসের চাপ কাঙ্ক্ষিত নয়, সক্ষমতা কম
শুরু করা গেলেও গ্যাসের চাপ এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ওঠেনি। শিল্প উদ্যোক্তাদের ভাষায়, গ্যাসের পর্যাপ্ততা না থাকায় কিছু পণ্যের উৎপাদন পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কারখানার কাঁচামাল, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আউটপুট—সবকিছুর উপরই এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়ছে।
কীভাবে সংকট তীব্র হয়েছিল
দেশের শিল্পকারখানায় গ্যাস-সংকট বহু দিন ধরেই চলছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এলএনজি সরবরাহের একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে গেলে। এতে নিত্যপণ্য, ওষুধ, সিরামিক, ইস্পাতসহ গ্যাসনির্ভর প্রায় সব খাতে উৎপাদন কমে যায়। সপ্তাহের শেষ দিকে এসে কিছু কারখানাকে একাংশ পুরোপুরি বন্ধ করতেও হয়।
জ্বালানি সমস্যা মেটাতে সময় লাগবে
এদিকে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা দ্রুত স্বস্তিতে যাবে—এমন আশা করা ঠিক হবে না। কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে বলে মন্তব্য এসেছে। পাশাপাশি জ্বালানিনীতি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে।
সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে, আরও দিন লাগতে পারে
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে একটি টার্মিনাল পুরোদমে ও আরেকটি টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। তারপরও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ফলে প্রবাসী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বস্তির বিষয়টিও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকছে—শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক না হলে কর্মসংস্থান ও আয়ের ধারায় চাপ পড়তে পারে।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা
কারখানা উৎপাদন ফিরছে—এটা স্বস্তির খবর। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট পুরো না ছাড়লে শিল্পচক্র আবার ওঠানামা করতে পারে। কাজের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্সের প্রবাহ এবং সামগ্রিক দামের চাপ—সবকিছুর সঙ্গেই এই সংকটের প্রভাব থাকে।
প্রশ্নোত্তর
কারখানা উৎপাদন ফিরছে কেন?
গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়তে শুরু করায় গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে।
সম্পূর্ণ সংকট কাটেনি কেন?
গ্যাসের চাপ এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ওঠেনি এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংও সব জায়গায় কমেনি।
কবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে?
দ্রুত সমাধান হবে না—এমন ইঙ্গিত আছে। সংশ্লিষ্টরা কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলছেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









