আগামী ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্তি বাধ্যতামূলক হচ্ছে। বিআরটিএর শর্ত অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ দেওয়া বা নবায়নের সময় জিপিএস যুক্ত ডিভাইস সচল থাকার তথ্য দেখাতে হবে—যাত্রী নিরাপত্তা আর পরিবহন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা দুটো দিকেই প্রভাব পড়বে।
সনদ নিতে হলে জিপিএসের প্রমাণ দেখাতে হবে

বিআরটিএর গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযুক্তির প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য দেখাতে হবে।
এ উদ্যোগটি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই কার্যকর হবে। অর্থাৎ শুধু ডিভাইস বসালেই দায় শেষ নয়; বাস্তবে ডিভাইস চালু ও কার্যকর থাকা জরুরি।
শুধু বসানো নয়, সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে
বিআরটিএ স্পষ্ট করেছে—জিপিএস ডিভাইস সার্বক্ষণিক সচল থাকতে হবে। নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকবে, যাতে যাত্রী সেবায় প্রযুক্তি কেবল কাগজে না থাকে। এর ফলে দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে আগেই ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে তথ্য কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
জিপিএস কীভাবে যাত্রীর নিরাপত্তা বাড়াবে
রিয়েল-টাইমে প্রতিটি বাসের অবস্থান পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হলে দুর্ঘটনা, ছিনতাই, ডাকাতি, কিংবা নারী ও শিশু হয়রানির মতো ঘটনায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এছাড়া গাড়ির অবস্থান, গতি ও কোন রুট অনুসরণ করেছে—এসব তথ্য সংরক্ষিত হলে দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো ঘটনার তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। গতি নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদিত রুট মানার প্রবণতা বাড়লে যাত্রী ভোগান্তিও কমতে পারে।
বাস মালিক ও কর্মীদেরও সুফল—কার্যকর বহর ব্যবস্থাপনা
জিপিএসের মাধ্যমে মালিকরা বাসের অবস্থান, রুট, গতি ও চলাচলের সময় পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ফলে বহর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি অপচয় কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।
ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা ও যাত্রীবান্ধব মোবাইল অ্যাপ চালু হলে যাত্রীরা বাসের অবস্থান এবং সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময় জানতে পারবেন। অপেক্ষার সময় কমলে দৈনন্দিন যাতায়াতও হবে সহজ। নির্ধারিত সময়সূচি ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না—এই তথ্য থাকলে অভিযোগ তদন্ত ও সেবা তদারকিও তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।
প্রবাসী যাত্রীদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
আপনি যেখানেই থাকুন, দেশে যাতায়াত মানে শুধু ভ্রমণ নয়—নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও। গণপরিবহনে জিপিএস কার্যকর হলে যাত্রীদের জন্য ঝুঁকি কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়, আর ব্যবসায়ী-পরিবহন ব্যবস্থার জবাবদিহিতাও বাড়ে।
প্রশ্ন-উত্তর
১ আগস্ট থেকে কি সব বাসে জিপিএস লাগবে?
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহনের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রক্রিয়ায় জিপিএস সংযুক্তি শর্ত হিসেবে কার্যকর হচ্ছে।
শুধু ডিভাইস বসালেই হবে?
না। ডিভাইস সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে এবং অ্যাপে সচল থাকার তথ্য দেখাতে হবে।
এতে যাত্রী কীভাবে উপকৃত হবে?
রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ও তথ্য সংরক্ষণ থাকলে নিরাপত্তা জোরদার, দ্রুত জরুরি সাড়া এবং তদন্তে সহায়তা মিলতে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









