গ্যাস ও বিদ্যুতের টানা বিঘ্নে উৎপাদন থমকে যাচ্ছে—আর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিল্পের সবচেয়ে বড় চাপটিই এখন সুদ ও কিস্তি। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাস কিস্তি স্থগিতের অনুরোধ জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
গ্যাস-বিদ্যুৎ বিঘ্নে উৎপাদন-রপ্তানি ক্ষতি

চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে বিঘ্ন থাকায় রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, প্লাস্টিকসহ নানা শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহের সংকটে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা অলিখিতভাবে কম কর্মসূচিতে চলে যাচ্ছে।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় রপ্তানি ও বিক্রিও হ্রাস পাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিক্রি ও রপ্তানির গতি প্রায় থেমে গেছে বলেই উল্লেখ করেছে চেম্বার। ফলে উৎপাদন খরচও উঠছে না—যা শিল্পের দৈনন্দিন টিকে থাকার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়ছে
চেম্বারের ভাষ্য, সরবরাহজনিত সংকটে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন একসঙ্গে একাধিক চাপ সামলাতে পারছে না। কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিল এবং দৈনন্দিন পরিচালন খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আর সামনের কয়েক মাসও একই ধাক্কা শিল্পোদ্যোক্তাদের বহন করতে হবে—এমন বাস্তবতাই তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। কারণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে সরবরাহ সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিক্রয় ও রপ্তানি আয় কমে আর্থিক ক্ষতি গভীর হচ্ছে।
উচ্চ সুদ শিল্পের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’
চট্টগ্রাম চেম্বার মনে করে, এমন পরিস্থিতিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের বোঝা বহন করতে হলে তা তাদের জন্য ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ উৎপাদন ও আয় কমে যাওয়ার সময় সুদ চালানো গেলে নগদ প্রবাহ আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশে নেতিবাচক বার্তা তৈরির আশঙ্কা
চিঠিতে সতর্ক করা হয়, এই ধরনের সংকট বর্তমান সরকারের শিল্পায়নের উদ্যোগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পাশাপাশি দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা সম্পর্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তাও তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে চেম্বার।
যে অনুরোধ করা হয়েছে
বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিজনিত বড় অংশটা পুষিয়ে নিতে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের ব্যাংক ঋণের কিস্তি (ইনস্টলমেন্ট) স্থগিত রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার। একই দিনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছেও একই ধরনের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসী আয় দেশে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে পরিবারের ব্যয় মেটায় ঠিকই, কিন্তু শিল্প টিকে না থাকলে চাকরি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যবসার স্থিতিও ঝুঁকিতে পড়ে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট শিল্পকে নাজুক করলে স্থানীয় অর্থনীতির ঢেউ প্রবাসী পরিবারের জীবনেও টান পড়ে।
প্রশ্ন-উত্তর
চট্টগ্রাম চেম্বার ঠিক কী চেয়েছে?
ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি স্থগিত রাখতে অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ।
কেন এই দাবি তোলা হলো?
গ্যাস ও বিদ্যুতের বিঘ্নে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে রপ্তানি-আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কারা চিঠি পেয়েছেন?
অর্থমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী—উভয়ের কাছেই দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









